গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : কালীগঞ্জে সাবেক স্ত্রীর অন্যত্র বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে নাদিম মোড়ল (২৩) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
রোববার (২৬ জুন) বেলা ১১টার দিকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত নাহিদ মোড়ল জামালপুর ইউনিয়নের চুপাইর এলাকার খোরশেদ আলম মোড়লের ছেলে। সে সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালক ছিলো।
জানা গেছে, মৃত্যুর আগে নাদিম মোড়ল তার ফেসবুকে কয়েকটি স্ট্যাটাস ও ছবি পোস্ট করেছে।
এর মধ্যে রয়েছে, দু’জনের মধ্যে ইমুতে চ্যাটের মাধ্যমে হওয়া কথোপকথনের কয়েকটি স্ক্রিনশর্ট। এছাড়াও নুসরাতের সঙ্গে নাদিমের বিয়ের ঘোষণাপত্র ও তাদের দু’জনের একত্রে থাকা কয়েকটি ছবি।
ফেসবুকে পোস্ট করা ছবির ক্যাপশনে নূসরাতের উদ্দেশ্য নাদিম লিখেছে, “প্রিয় ২২ তারিখে আমার হাত ধরে বাড়ি ছেড়ে ছিলে। আবার ২২ তারিখে ছাড়তে হলো। আসলে কেঁদে গেলা কাঁদিয়ে।”
“সুখী হও আমায় ছেড়ে, কিন্তু আমি পারবো না তোমায় ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে।”
“জীবন যুদ্ধে হেরে গেলাম আমি, ভালো থেকো।”
অপর এক স্ট্যাটাসে তার বাবা-মা’র উদ্দেশ্যে নাদিম লিখেছে,”প্রিয় মা-বাবা জানি তোমাদের কষ্ট হবে, কিন্তু আমি পারলাম না নিজের জীবনের সাথে যুদ্ধ করতে, পারলে মাফ করে দিও।”

নিহতের চাচি মমতাজ বেগম ও স্থানীয়রা বলেন, নিহত নাদিম তার চাচাতো বোন নূসরাত জাহানের (১৮) প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর পারিবারিক ভাবে (কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে) তাদের দু’জনের বিয়ে হয়। এর কিছুদিন যেতেই দু’জনের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। পরে গত ৮ জানুয়ারি এক পর্যায়ে নাদিমকে ডিভোর্স দেয় নূসরাত। এরপরও তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ হতো। এদিকে গত ২২ জুন (কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে) নুসরাতকে অন্যত্র বিয়ে দেয় তার পরিবার। এরপর থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে নাদিম। রোববার নূসরাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নতুন স্বামীর কাছে উঠিয়ে দেয়ার দিন ধার্য করা হয়। এদিন সকালে নাদিমের বাড়ির পাশে থাকা একটি পরিত্যক্ত ঘরের আড়ার সঙ্গে তার সাবেক স্ত্রী নুসরাতের ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ এসে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে লাশ উদ্ধার করে।
অপরদিকে রোববার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে নুসরাতকে তার নতুন স্বামীর কাছে উঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নুসরাত জাহান বলেন, ”নাদিম আর তার দুলাভাই আমাকে জোড় করে উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। পরে আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ের ২০-২১ দিন পর থেকে সে আমাকে মারধর করতো। এছাড়াও সে মাদক সেবন করতে। তাই আমি তাকে ডিভোর্স দিয়েছি। এখন আমি আমার পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন সংসার করবো।”
কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামীম মিয়া বলেন, রোববার বেলা ১১টার দিকে ঝুলন্ত অবস্থায় থেকে নাদিমের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের শরীরে আঘাতের কোন চিহ্ন ছিল না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।