গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হলো।
ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম মঙ্গলবার (০৭ মার্চ) এই আদেশ দেন। আগামী ৭ মে মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেছেন আদালত।
সংবাদ মাধ্যমকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের সরকারি কৌঁসুলি সাইফুল আলম।
আদালত–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই মামলায় অভিযুক্ত তিন আসামি হলেন প্রকৌশলী আনিছুর রহমান ওরফে সেলিম (৪১), ভাড়াটে সন্ত্রাসী হেলাল হাওলাদার শাহিন (৪৫) ও মাইক্রোবাসের চালক হাবিবুর রহমান খান (৩৫)। তাঁদের মধ্যে সেলিম পলাতক। বাকি দুজন আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চেয়েছেন।
২০২০ সালের ১৩ মে দেলোয়ার হোসেনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। রাজধানীর তুরাগ এলাকা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ১১ মে মিরপুরের বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় ভাড়া করা মাইক্রোবাসে নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে তাঁর সহকর্মী আনিছুর রহমান ও তাঁর (আনিছুর) দুই সহযোগী শাহিন ও হাবিব ছিলেন। হাবিব মাইক্রোবাস চালাচ্ছিলেন। মাইক্রোবাসটি রূপনগর দিয়ে বেড়িবাঁধে ওঠার পর আনিছুর রহমানের ইশারায় শাহিন প্রকৗশলী দেলোয়ারের গলায় রশি পেঁচিয়ে টান দেন। তখন আনিছুরও চেপে ধরেন দেলোয়ারকে। এরপর দেলোয়ার নিস্তেজ হয়ে পড়লে মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাঁকে পেটানো হয়। পরে দেলোয়ারের লাশ উত্তরার ১৭ নম্বর সেক্টরের খালি প্লটে ফেলে দেওয়া হয়। দেলোয়ার হোসেন হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার ভাড়াটে খুনি শাহিন ও হাবিব আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তাঁরা বলেছেন, আনিছুর খুনের জন্য তাঁদের ভাড়া করেন। ঘটনার সময় আনিছুরও গাড়িতে ছিলেন এবং তাঁর নির্দেশেই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
ঘটনার প্রায় এক বছর পর ২০২১ সালের ৩০ এপ্রিল ওই তিনজনকেই অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। অভিযোগপত্রে বলা হয়, আনিছুর বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করতেন, যা দেলোয়ার পছন্দ করতেন না। আনিছুর ছোটখাটো বিষয়ে তাঁর অফিসের কর্মচারীদের বকাঝকা ও হয়রানি করতেন।
এতে কর্মীরা আনিছুরের চেয়ে দেলোয়ারকে বেশি পছন্দ করতে থাকেন। এতেই দূরত্ব তৈরি হতে থাকে আনিছুর ও দেলোয়ারের মধ্যে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ী জোনাল অফিসে থাকাকালে আনিছুরকে জালিয়াতির অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় করপোরেশন। আনিছুরের ধারণা ছিল, দেলোয়ারের কারণেই তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এর আগে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে দেলোয়ার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের দায়িত্বে ছিলেন। সেই সময় আনিছুর গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দেলোয়ারকে ওই সময় সিটি করপোরেশনে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে বদলি করা হয়েছিল। সেখান থেকেও দেলোয়ারের প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয় আনিছুরের।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২০ সালের ৫ মে দেলোয়ারের সঙ্গে ঝগড়া হয় আনিছুরের। এরপরই দেলোয়ারকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন আনিছুর।
সূত্র: প্রথম আলো