নিজস্ব সংবাদদাতা : কালীগঞ্জে ব্যাংক থেকে বেতনের অর্থ উত্তোলন করে স্কুলে ফেরার পথে প্রকাশ্য দিবালোকে হাবিবুল্লাহ মিয়াজী (৫৬) নামে এক শিক্ষককে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তুলে নিয়ে অর্থ লুটের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) দুপুর আনুমানিক পৌণে ৩টার দিকে তুমুলিয়া ইউনিয়নের টিওরি কিংস এগ্রো ফার্ম এলাকা থেকে শিক্ষক হাবিবুল্লাহ মিয়াজীকে একটি হাইস গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় একদল দুর্বৃত্ত। এরপর রূপগঞ্জের পূর্বাচল এলাকায় নিয়ে সঙ্গে থাকা অর্থ লুট করে ওই শিক্ষককে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
ভুক্তভোগী হাবিবুল্লাহ মিয়াজী ভাইয়াসূতী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক। তিনি ইসলাম ধর্ম বিষয়ের শিক্ষক। হাবিবুল্লাহ মিয়াজী উত্তরা থেকে এসে স্কুলের ক্লাস নেন। তাঁর দুই ছেলে যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন।
ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে ভাইয়াসূতী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষককের বেতনের মোট ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা কালীগঞ্জ সোনালী ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেন হাবিবুল্লাহ মিয়াজী। পরে যাত্রীবাহী একটি অটোরিকশায় চড়ে কালীগঞ্জ থেকে সোমবাজার হয়ে টিওরি-ভাইয়াসূতি সড়ক দিয়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সে সময় অটোরিকশায় তিনিসহ মোট সাতজন যাত্রী ছিলেন। পরে টিওরি এলাকায় গিয়ে দুইজন যাত্রী নেমে যায়। সে সময় তাদের অটোরিকশা অতিক্রম করে একটি হাইস গাড়ি সামনের দিকে যায়। পরে তাদের অটোরিকশা টিওরি কিংস এগ্রো ফার্ম এলাকা অতিক্রম করে সড়কের নির্জন স্থান হয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল। সে সময় হঠাৎ করে হাইস গাড়ি থেকে কয়েকজন নেমে নিজেদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে হাবিবুল্লাহ মিয়াজীর পরিচয় জানতে চায়। তিনি নাম বলার সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাতকড়া পরিয়ে চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলেন। পরে গাড়িটি দ্রুত ওই এলাকা ত্যাগ করে এগিয়ে যায়। সে সময় অটোরিকশা চালক অন্য যাত্রীদের নিয়ে স্কুলে গিয়ে বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানান। পরে প্রধান শিক্ষক থানায় গিয়ে এ বিষয়ে পুলিশকে জানান।
অপরদিকে ঘটনার প্রায় দুই ঘন্টা পর আনুমানিক বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে পূর্বাচল এলাকা থেকে খবর আসে স্কুল শিক্ষক হাবিবুল্লাহ মিয়াজীকে পাওয়া গেছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি স্কুলে ফেরেন। স্কুলে ফিরে ঘটনার বিবরণে হাবিবুল্লাহ মিয়াজী জানায়, অপহরণকারীরা তাকে গাড়িতে তুলে হাতকড়া খুলে গামছা দিয়ে হাত বেঁধে সিটের নিচে বসিয়ে রাখেন। সে সময় তাঁর পারিবারিক এবং রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চায়। এছাড়াও অপহরণকারীরা তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে গাড়ি থেকে বাহিরে ফেলে দেয়। গাড়িতে থাকা অবস্থায় অপহরণকারীরা নিজেদের মধ্যে বলতে থাকে স্যার আসামি ধরেছি। নিয়ে আসতেছি। এছাড়াও এ ধরনের বিভিন্ন বিষয়ে। একপর্যায়ে হাবিবুল্লাহ মিয়াজীর সঙ্গে থাকা তাঁর নিজেরসহ ১০ শিক্ষকের বেতনের ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ও তাঁর নিজস্ব আরো ৭ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন কাগজপত্রসহ পার্সোনাল ব্যাগ লুট করে তাঁকে পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী এক্সিবিশন সেন্টারের (আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার স্থান) কম্পাউন্ডের পাশে চোখ ও হা বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অপহরণকারীরা। পরে বাঁধন খুলে তিনি স্থানীয়দের ঘটনার বিস্তারিত বললে তাঁদের সহায়তায় তাঁকে স্কুলে পৌঁছে দেয়া হয়। এছাড়াও তাঁর মোবাইল ফোন বাঘলা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাইয়াসূতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনার পর থানায় গিয়ে পুলিশকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। রাতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বুধবার এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করা হবে।
কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব চক্রবর্তী বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। আসামিদের শনাক্ত করার বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।