গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কট্টর সমালোচক অ্যালেক্সি নাভালনি কারাগারে বন্দি অবস্থায় মারা গেছেন।
শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রুশ কারা কর্তৃপক্ষ এ খবর জানিয়েছে। উগ্রপন্থায় উস্কানি, অর্থায়ন এবং একটি উগ্রপন্থি সংগঠন প্রতিষ্ঠার অভিযোগে গতবছর অগাস্টে নাভালনিকে নতুন করে ১৯ বছরের জেল দেওয়া হয়েছিল।
সেই সাজাই খাটছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই ব্যাপকভাবে মনে করা হয়ে থাকে।
গতবছরের শেষ দিকে রাশিয়ার স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ইয়ামালো-নেনেতের আর্কটিক পেনাল কলোনিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল নাভালনিকে। এই কারাগারকে সবচেয়ে কঠোর জেলগুলোর একটি বলেই গণ্য করা হয়।
কারা পরিষেবা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, শুক্রবার হেঁটে আসার পর নাভালনি ‘অসুস্থ বোধ’ করছিলেন। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে ডাকা হয় জরুরি চিকিৎসক দলকে। তারা নাভালনির জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনও ফল হয়নি।
চিকিৎসকরা কারাবন্দি নাভালনিকে মৃত ঘোষণা করেন। কী কারণে তার মৃত্যু হল তা জানার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার তাস বার্তা সংস্থা।
নাভালনির আইনজীবী লিওনিদ সলোভায়োভ রুশ গণমাধ্যমকে এ মুহূর্তে কিছু বলবেন না বলে জানিয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষ নাভালনির মৃত্যু ঘোষণা করার পরই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট পুতিনের সবচেয়ে বড় এই প্রতিপক্ষের সাহসের প্রশংসা করেছে।
ফ্রান্স বলেছে, রাশিয়ার নিপীড়ন রুখে দাঁড়ানোর জন্য তিনি নিজের জীবন দিয়ে গেছেন। নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তার মৃত্যুতে রাশিয়ার ওপর বড় ধরনের দায়-দায়িত্ব বর্তায়।
পশ্চিমা দেশগুলো নাভালনির মৃত্যুর ঘটনার নিন্দা জানাতে শুরু করেছে। সুইডিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, অ্যালেক্সি নাভালনিকে নিয়ে ভয়ঙ্কর খবর.. রাশিয়ার কারাগারে তার মৃত্যুর খবর সত্য হলে তা হবে পুতিনের শাসকগোষ্ঠীর আরেক ভয়াবহ অপরাধেরই বহিঃপ্রকাশ।”
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন চেলিয়াবিনস্ক নগরী পরিদর্শনে রয়েছেন। তাকে নাভালনির মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের বেশিরভাগ সমালোচকই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তবে অ্যালেক্সি নাভালনি ২০২১ সালের জানুয়ারিতে কয়েকমাসের চিকিৎসা শেষে রাশিয়ায় ফিরেছিলেন। ২০২০ সালের অগাস্টে সাইবেরিয়া ভ্রমণের শেষ দিকে তাকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল।
পরে তাকে জার্মনিতে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে রাশিয়া ফেরার পরপরই তাকে কাস্টডিতে নেওয়া হয়েছিল। পরের ৩৭ মাসে তিনি আর জেল থেকে বেরোননি।
ভোটে প্রেসিডেন্ট পুতিনকে অনেকদিন থেকেই চ্যালেঞ্জ জানানোর চেষ্টা করে এসেছিলেন নাভালনি। কিন্তু ২০১৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আগামী মাসে হতে চলা ভোটে এবার প্রেসিডেন্ট পুতিন বিনা চ্যালেঞ্জে এবং অর্থবহ কোনও বিরোধীদল ছাড়াই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছেন।