গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : ১৫ লাখ টাকায় (প্রাথমিক দর) ‘উচ্চবংশীয়’ ছাগল কিনতে গিয়ে আলোচনায় আসেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য মতিউর রহমান ও তার ছেলে মুশফিকুর রহমান ওরফে ইফাত। এর পর থেকে মতিউর রহমানরের বিলাসী জীবনযাপনের নানা তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে।
একজন সরকারি চাকরিজীবীর কলেজপড়ুয়া ছেলে কীভাবে এত বিলাসী জীবনযাপন করতে পারেন, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ইফাতের বাবা তাৎক্ষণিকভাবে ছেলের পরিচয়ও এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
যদিও এরমধ্যেই মতিউর রহমান ও তার স্ত্রী-সন্তানদের ব্যাংকভর্তি কাঁড়ি-কাঁড়ি টাকার ও বিপুল সম্পদ ভান্ডারের সন্ধান মিলেছে।
কেবল সম্পদই নয়, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মতিউরের স্ত্রী লায়লা কানিজ লাকি। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি তার। বর্তমানে পূবাইল, নরসিংদী, নাটোর, যশোরে বিঘার পর বিঘা জমি আছে তার। রয়েছে একাধিক রাজকীয় বাড়ি-বিলাসবহুল গাড়ি। পিকনিক স্পট, শুটিং স্পট, মাছের খামার, ফ্ল্যাট, প্লট-কী নেই লায়লার। আরও রয়েছে কারখানা, ডেভেলপার ও শিপিং ব্যবসা।
বিপুল সম্পদের বিবরণ লায়লা কানিজ লাকি তার নির্বাচনি হলফনামায় নিজেই দিয়েছেন। সম্প্রতি মতিউরের দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাতের ঈদুল আজহায় কুরবানির জন্য কেনা ১৫ লাখ টাকার ছাগল ও ৩৭ লাখ টাকার গরুর অর্থের উৎস খুঁজতে গিয়ে বের হয়ে আসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কমিশনার অব কাস্টমস) ও সোনালী ব্যাংক পরিচালনা পরিষদের পরিচালক ড. মো. মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিপুল সম্পদ।
ঢাকার তিতুমীর সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন লায়লা কানিজ ফাতেমা। জানা গেছে, তার মেয়ে ফারহানা রহমান বিবিএ শেষ করে এখন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। ছেলে আহমেদ তৌফিকুর রহমান অর্নব অর্থনীতিতে অনার্স পড়ছেন যুক্তরাষ্ট্রে। দেশে সম্পদের পাহাড় ছাড়াও বিদেশে রয়েছে বিশাল সম্পদ। দেশের বাইরে শত শত কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে পাচারের অভিযোগও রয়েছে লাকির বিরুদ্ধে। সৎ ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাতের ছাগলকাণ্ডের পর অনেকটা বেকায়দায় পড়েন তিনি। লাকি এখন সময় কাটাচ্ছেন পুবাইলে।

রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তবে তার প্রথম স্ত্রী নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা চেয়ারম্যান লায়লা কানিজ লাকি মুঠোফোনে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, মুশফিকুরকে তিনি চেনেন না। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরও তিনি চিনতে না পারার কারণ জানতে চাইলে বলেন, ওই ছেলে কার, তিনি কে এবং তাদের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। বিপুল অর্থ-বৈভবের উৎস স্বামীর না বাবার বাড়ির জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই তথ্য আপনাকে দেব কেন? যেখানে কৈফিয়ত দেওয়ার সেখানেই দেব।’ এই বলে লাইন কেটে দেন লায়লা।
মতিউরের প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজ অবসর গ্রহণের পর ২০২৩ সালের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে পৈতৃক বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। হলফনামায় তার দেওয়া স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিবরণ পিলে চমকে ওঠার মতো।
জানা গেছে, বরিশালের মুলাদী উপজেলার চর বাহাদুরপুর গ্রামে আবদুল হাকিম হাওলাদারের ছেলে মতিউর রহমান দুই ভাই তিন বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্সে অনার্স-মাস্টার্স এবং এমবিএ করে ১৯৯০ সালে কর্মজীবন শুরু করেন পল্লী কর্মসংস্থান ফাউন্ডেশনে (পিকেএসএফ)।
সেখানে উপ-ব্যবস্থাপক পদে থাকা অবস্থায় ১৯৯৩ সালের ১ এপ্রিল যোগ দেন কাস্টমস বিভাগে। ২০১৫ সালে পদোন্নতি পেয়ে হন কর কমিশনার। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি দাপুটে ওই রাজস্ব কর্মকর্তার। একসময় টানাটানির সংসার থাকলেও দ্রুত বাড়তে থাকে নগদ অর্থ-সম্পদ। কয়েক বছরের ব্যবধানে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হন তিনি।
মতিউরের দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আক্তার শিউলী। এই সংসারে তার দুই ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাত।

লায়লা কানিজ লাকির যত সম্পদ : পুবাইলে আপন ভুবন পিকনিক ও শুটিং স্পটে ৯টি দলিলে প্রায় ১০০ শতক ছাড়াও নগরীর হায়দারাবাদে ১০ শতক এবং টঙ্গীর মরকুনে দুই দাগে ৫৬ শতক জমি রয়েছে। মরকুন ও হায়দারাবাদের দুই প্লটের দাম ২ কোটি টাকার মতো বলে জানা গেছে। এছাড়াও রাজধানীর গুলশানে লায়লা কানিজের নামে ১০ নম্বর সড়কের ৩৪৮ নম্বর (বি-ডি) বাড়ি রয়েছে। রাজউকের ২০ নম্বর সেক্টরের ১১১/ই সড়কে ৫ কাঠার ৭ নম্বর প্লট (দলিল নং ১৩৪০৯/২১) কিনেছেন ১২ লাখ টাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্লট কেনায় প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন লায়লা। ২০১৩ সালে লায়লার মেয়ে ফারজানা রহমান ৪০ লাখ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে প্লট মালিকের কাছ থেকে রেজিস্ট্রি বায়না করেন। (বায়না দলিলের কপি সময়ের আলোর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে)। ২০১৩ সালে জমির দাম ৪০ লাখ টাকা হলে ২০২১ সালে ওই প্লটের মূল্য কিছুতেই ১২ লাখ টাকা হতে পারে না। কেনার সময় ৫ কাঠার ওই প্লটের মূল্য ছিল কমপক্ষে ৪ থেকে সাড়ে ৪ কোটি টাকা। একইভাবে পূর্বাচলের ১৬ নম্বর সেক্টরের ৩০২ নম্বর সড়কের ৫ কাঠার ১১নং প্লট (দলিল নং ১৬৩/১৯) কিনেছেন লায়লা কানিজ। দলিলে এই প্লটের মূল্যও দেখানো হয়েছে ১২ লাখ টাকা। এই জমিও ২০১২ সালে কেনার জন্য ৪০ লাখ টাকায় বায়না করে ছিলেন ঢাকার আজিমপুর এলাকার মুনসুর হাসান। পরে জমির মালিক মুনসুর হাসানকে প্লটটি আম মোক্তারনামা দলিল করে দেন। আম মোক্তারনামা দলিল মূলে মুনসুর হাসান লায়লা কানিজের কাছে বিক্রি করেন। ওই সময় প্লটটির বাজার মূল্য ছিল ৫ কোটি টাকা।
আরও যত সম্পদ : জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আগারগাঁও কার্যালয়ে কর্মরত মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিতভাবে জমা পড়ে। ওই অভিযোগ থেকে জানা যায়, ঢাকার বসুন্ধরার ডি ব্লকের ৭/এ সড়কের ৩৮৪ নম্বর বাড়ির ৫ম তলায় ফ্ল্যাট রয়েছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ২ কোটি টাকা, একই ব্লকে একই সড়কে ৫ কাঠার ওপর ৫১৯ নম্বর আলিশান ৭ তলা বাড়ির মালিক মতিউর। বাড়িটির আনুমানিক মূল্য ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা। পূর্বাচল সংলগ্ন রূপগঞ্জের দাউদপুর এলাকার কামতা মৌজার আরএস ১৫১ দাগে ২৩২২ নং দলিলে ২০১৪ সালে ৯ শতক জমি কেনেন তিনি। দলিলে মূল্য লেখা হয়েছে ১১ লাখ টাকা। কিন্তু ওই সময় সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে জমির বাজার মূল্য নিয়ে প্রতারণা করেন মতিউর-লায়লা দম্পতি। একইভাবে একই এলাকায় ১৪০৫৭ নম্বর দলিলে ২০১৩ সালে ৯৯ লাখ টাকায় ৩৩ শতক (এক বিঘা), ১০৫৮১ নম্বর দলিলে ২০১৫ সালে ৫ লাখ ১০ হাজার টাকায় .০৪১৭ শতক জমি ক্রয় করেন। বাজার মূল্য দ্বিগুণ হলেও দলিলে দাম কম লিখে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন মতিউর। সাভার থানার বিলামালিয়া মৌজায় ১৩০৩৫ নম্বর খতিয়ানের ১৭৬২ ও ১৭৬৩ নম্বর দাগে তার জমি রয়েছে ১২.৫৮ শতক। যার বাজার মূল্য ২ কোটি টাকার বেশি। গাজীপুর মহানগরীর পুবাইলের খিলগাঁও মৌজায় নিজের এবং স্ত্রী নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লায়লা কানিজ লাকি, মেয়ে ফারজানা রহমান ইপ্সিতা ও ছেলে তৌফিকুর রহমান অর্নবের নামে ৭৫ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন আপন ভুবন পিকনিক অ্যান্ড শুটিং স্পট। তার মধ্যে ৩০-৩৫ বিঘা কিনেছেন ১৫-১৬ লাখে। বাকি জমির মূল্য দেখিয়েছেন ৬০ থেকে ৯০ লাখ টাকা করে বিঘা। যার মূল্য ৪২ কোটি টাকার বেশি। আপন ভুবন পিকনিক অ্যান্ড শুটিং স্পটের অনেক জমি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়েছে। অনেককে কম দামে জমি বিক্রিতে বাধ্য করেছেন মতিউর-লায়লা দম্পতি।

সরেজমিনে পুবাইল খিলগাঁও এলাকার এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আপন ভুবনে প্রবেশমুখের জমিটি তার ছিল। বিক্রি না করায় যুবলীগের এক নেতাকে দিয়ে দিনদুপুরে তার জমি দখল করে নেন মতিউর ও তার স্ত্রী লায়লা। এভাবে তার ৯৪ শতক (প্রায় তিন বিঘা) জমি ভাড়াটে লোকজন নিয়ে দখল করে নিয়েছে প্রভাবশালী ওই কর্মকর্তা। পুলিশের কাছে গিয়েও বিচার পাননি তিনি। এ নিয়ে অনেক সালিশ দরবার হলেও জমি ফেরত পাননি। দখল করে নেওয়া জমির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। ওই ব্যক্তি আরও বলেন, জমি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় তার ছোট ভাই শেখ মুসলেহ উদ্দিনকে মারধর করেন ওই যুবলীগ নেতার লোকজন। পরে বাধ্য হয়ে ২০১৭ সালে তিন বিঘা এবং তিন মাস আগে আরও ৩ বিঘা জমি আপন ভুবনের কাছে বিক্রি করে দেন শেখ মুসলেহ উদ্দিন।
আশপাশের আরও কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, শেখ মনিরের ১০ শতক, শেখ মুকুলের মা নূরজাহান বেগমের ২৪ শতক জমিও দখল করে নিয়েছেন আপন ভুবন পিকনিক অ্যান্ড শুটিং স্পটের মালিক।
স্পট ভাড়ার কথা বলে ভেতরে গেলে কথা হয় আপন ভুবনের সহকারী ম্যানেজার সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আপন ভুবনের ৮০০ লোকের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশাল হলরুম, ৯টি কটেজসহ জমি রয়েছে ৭৫ বিঘা। রয়েছে বিশাল বিশাল পুকুর, লেক এবং আকর্ষণীয় স্পট। ১০০ টাকা টিকেট কেটে যে কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে পারেন। ড. মতিউর মালিক হলেও পরিচালনা করেন তার স্ত্রী লায়লা কানিজ। আপন ভুবন ছাড়াও নরসিংদীর মরজালে ১০০ বিঘার ওপর একই মালিকের ওয়ান্ডার ল্যান্ড নামে আরও একটি প্রতিষ্ঠান আছে।
প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মো. রাজিব হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, হল রুমের ভাড়া লোকজনের ওপর ভিত্তি করে কম-বেশি হয়। ৪০০ লোকের একদিনের জন্য ভাড়া অফ সিজনে আড়াই লাখ। এসি ছাড়া ২ লাখ। খাবারসহ বুকিং দিলে সাউন্ড সিস্টেম ছাড়া জনপ্রতি দিতে হয় ২ হাজার করে।
যেভাবে শিক্ষিকা থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান হন লাকি : স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৩ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন তৎকালীন রায়পুরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস ছাদেক। পরে উপজেলার চেয়ারম্যান পদটি শূন্য ঘোষণা করা হলে ওই পদে উপনির্বাচনে নৌকার প্রার্থী লায়লা কানিজ লাকি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। এরপর তিনি নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের দুর্যোগ ও ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক পদ পান। লায়লা রাজনীতিতে আসার আগে সরকারি তিতুমীর কলেজে শিক্ষকতা করতেন। শিক্ষকতাকালীন তিনি কাজ করে সুনাম কুড়িয়েছেন। ভূমিকা রেখেছেন মসজিদ-মাদরাসা, স্কুল-কলেজ নির্মাণে। সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষের প্রয়োজনে, দুর্বিপাকে তিনি প্রসারিত করেছেন হাত।
চলতি বছরের ২৯ মে অনুষ্ঠিত রায়পুরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে লায়লা চেয়ারম্যান পদে একমাত্র নারী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন পাড়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ফেরদৌস কামাল জুয়েল, নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য আলী হোসেন দুলু, রায়পুরা উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ওয়াহেদুজ্জামান পনির ও সোলাইমান খন্দকার।
স্থানীয় লোকজন বলছে, স্থানীয় এমপি ও সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর হাত ধরে লায়লা কানিজ লাকি রাজনীতিতে আসেন। পাশাপাশি সামাজিক কাজে সম্পৃক্ততা, শিক্ষাবান্ধব পরিচিতি তাকে রাজনীতিতে দ্রুতই শক্ত জায়গা করে দেয়।
সূত্র : সময়ের আলো