জাল সনদে চাকরি, এমপিও বাতিল ১১৪ মাদ্রাসা-শিক্ষকের তালিকায় ৬০ জনই কাপাসিয়ার

তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মামলা দায়েরের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

জাল সনদে চাকরি, এমপিও বাতিল ১১৪ মাদ্রাসা-শিক্ষকের তালিকায় ৬০ জনই কাপাসিয়ার

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সারা দেশের ১১৪ জন মাদ্রাসা-শিক্ষকের সনদ জাল বলে প্রমাণিত হওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের এমপিও-সুবিধা বাতিল করে দিয়েছে। 

তবে যা সবচেয়ে বিস্ময়কর, সেই ১১৪ জনের মধ্যে ৬০ জনই গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক। একটিমাত্র উপজেলায় এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গোটা এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

গত ২৩ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে একটি সরকারি চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। 

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এনটিআরসিএ পরিচালিত যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সনদ জাল বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী তাদের এমপিও-সুবিধা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হচ্ছে।

শুধু সুবিধা বাতিলেই ক্ষান্ত নয় সরকার। ওই চিঠিতে আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই শিক্ষকেরা এতদিন ধরে যে সরকারি অর্থ ভোগ করেছেন, তা সম্পূর্ণ আদায় করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মামলা দায়েরের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

প্রকাশিত তালিকা খতিয়ে দেখে জানা গিয়েছে, শুধু কাপাসিয়া উপজেলার কয়েকটি মাদ্রাসা থেকেই এমপিও বাতিল হয়েছেন ৬০ জন শিক্ষক, যা মোট সংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি। 

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলছেন, কীভাবে এত বছর ধরে জাল সনদে চাকরি করে গেলেন এই শিক্ষকেরা? প্রশাসনিক নজরদারির ফাঁকে এই বিশাল জালিয়াতি কীভাবে এতদিন ধরা পড়েনি, সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে সরকারি মহলে।