আমরা দেশ বিক্রির জন্য কোনো চুক্তি করিনি : শেখ হাসিনা

আমরা দেশ বিক্রির জন্য কোনো চুক্তি করিনি : শেখ হাসিনা

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : ট্রানজিট দিলেই দেশ বিক্রি হয় না, আর ট্রানজিট দিলে ক্ষতিটা কী? সদ্যসমাপ্ত ভারত সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছে এ প্রশ্ন রাখলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতকে রেল যোগাযোগ সুবিধা দিলে ক্ষতি কোথায়? আমরা কি দরজা বন্ধ করে দিয়ে বসে থাকব?’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। ট্রানজিট দিলেই দেশ বিক্রি হয় না। আর ট্রানজিট দিলে ক্ষতিটা কী? ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগ চুক্তির সমালোচনা হবে কেন? এ চুক্তির ফলে আমি দেশটাকে কীভাবে বিক্রি করে দিলাম? স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেই আমরা দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলো করেছি। আমরা দেশ বিক্রির জন্য কোনো চুক্তি করিনি। শেখ হাসিনা দেশ বিক্রির জন্য কোনো চুক্তি করে না। যারা এসব কথা বলে তারাই দেশ বিক্রি করার জন্য বসে থাকে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি দেশের মধ্য দিয়ে ট্রানজিট দিলে ক্ষতি। ইউরোপে কোনো বর্ডারই নাই। তারা কি একে অন্যের কাছে দেশ বিক্রি করে দিয়েছে? দক্ষিণ এশিয়ায় কেন বাধা দিয়ে রাখব। মানুষ কি দরজা-জানালা বন্ধ রাখবে? এ কানেক্টিভিটির ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার হবে। দেশের মানুষই লাভবান হবে।’

মঙ্গলবার (২৫ জুন) সকাল ১১টায় গণভবনে ভারত সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রেল যোগাযোগ চু্ক্তির বিষয়ে সমালোচনার জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে। ভারত সম্পূর্ণ বিনা স্বার্থে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সহায়তা করেছে। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এখন অনেক গভীর। কাজেই ভারতের কাছে আমি দেশ বিক্রি করে দেব কিংবা ভারত আমাদের দেশ দখল করে ফেলবে, এগুলো গুজব ছাড়া আর কিছু নয়।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিস্তা প্রকল্পে চীন ভারত, দুদেশই প্রস্তাব দিয়েছে। সবদিক বিবেচনার করেই সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ।

তিনি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশ ও ভারত এবং জনগণের কল্যাণের জন্য আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করার বিষয়ে সম্মত হয়েছি। আমরা পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততার পথ এবং কার্যপন্থা নিয়ে আলোচনা করেছি।

তিনি বলেন, ২১ ও ২২ জুন আমি রাষ্ট্রীয় দ্বিপাক্ষিক সফর করেছি। একই মাসে সরকার প্রধান হিসেবে দুইবার দিল্লি সফর আমার জন্য এক অভূতপূর্ব ঘটনা। এসবই আমাদের দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠভাবে একে অপরের সঙ্গে কাজ করার প্রমাণ বহন করে।