গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত ঐতিহাসিক চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ঢাকা সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানে ‘ধারাবাহিকভাবে উত্তেজনা প্রশমন ও আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির পক্ষে’ অবস্থান নিয়ে আসছে।
মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে, চুক্তিটি ‘সদিচ্ছার সঙ্গে বাস্তবায়িত হবে এবং দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই’ প্রমাণিত হবে।
রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ঘোষণা দেন, ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের অবসান, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে সম্মতি হয়েছে। ট্রাম্প ঘোষণায় বলেন, ‘বিশ্বের জাহাজগুলো, ইঞ্জিন চালু করো। তেল বইতে দাও!’
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ একটি ব্যাপকতর চুক্তির রূপরেখা তৈরি করা হবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বেশির ভাগ দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা চুক্তিটিকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও ইসরায়েল ব্যতিক্রমী অবস্থান নিয়েছে।
পাকিস্তান ও কাতার: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ওয়াশিংটন ও তেহরানকে অভিনন্দন জানিয়ে কূটনৈতিক সমাধানে তাদের প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেন। এই চুক্তিতে মধ্যস্থতায় ভূমিকার জন্য কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্কের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উভয় পক্ষের ‘আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের সংকল্পের’ প্রশংসা করেছে।
তুরস্ক ও ইউরোপ: তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এই চুক্তিকে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লাইয়েন হরমুজ প্রণালিতে ‘নিরাপদ ও টোলমুক্ত নৌচলাচল পুনরুদ্ধার’কে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ প্রণালিটি ‘জরুরি ও শর্তহীনভাবে’ পুনরায় খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জাতিসংঘ ও যুক্তরাজ্য: জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই চুক্তিকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার চুক্তিকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করে প্রয়োজনে মাইন অপসারণ অভিযানে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন।
চুক্তিকে ঘিরে বৈশ্বিক আশাবাদের মধ্যেও ইসরায়েল তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী চুক্তি চলাকালেও তাঁর দেশ লেবাননে দখলকৃত ভূখণ্ড ছাড়বে না। সিরিয়া ও গাজায়ও ইসরায়েলের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ চুক্তিটিকে ‘ইসরায়েল ও গোটা মুক্ত বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর’ বলে কড়া ভাষায় নিন্দা করেছেন।
মাসের পর মাস সংঘাতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু এবং বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যের ব্যাপক ঊর্ধ্বগতির পর এই চুক্তি কার্যকর হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।