গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
বুধবার (০৯ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব নেওয়ার তারিখ থেকে ৫ বছর বা বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে বহাল থাকবেন তিনি।
ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পদে পরিবর্তনের মধ্যে মঙ্গলবার পিএসসি চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইনসহ কমিশনের সদস্যরা পদত্যাগ করেন। তার পরদিনই কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য হিসেবে চারজনকে নিয়োগ দিল সরকার।
মোবাশ্বের মোনেনের কমিশনে সদস্য হিসেবে থাকবেন মো. সুজায়েত উল্লাহ, নূরুল কাদির, মো. আমিনুল ইসলাম এবং নাজমুল আমিন মজুমদার।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইনে একজন চেয়ারম্যান এবং অন্যূন ৬ জন ও অনধিক ২০ জন সদস্য নিয়ে কমিশন গঠনের সুযোগ রয়েছে।
মোবাশ্বের মোনেম ঢাকা বি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন। সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় ও হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়—উভয়েই পোস্টডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেছেন। মোবাশ্বের মোনেম দুটি বই লিখেছেন, অসংখ্য প্রকাশনায় অবদান রেখেছেন এবং ১০০টিরও বেশি নিবন্ধ এবং প্রযুক্তিগত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন, যার মধ্যে অনেকগুলোই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একাডেমিক জার্নালে উপস্থিত হয়েছে। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন, বাংলাদেশে সরকারি খাত ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন অনুশীলন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইনসহ কমিশনের ১২ জন সদস্য পদত্যাগপত্র জমা দেন। পিএসসির সচিবের কাছে তাঁরা পদত্যাগপত্র জমা দেন। কিন্তু আজ দুপুর পর্যন্ত পিএসসির দুই সদস্য হেলালুদ্দিন আহমদ ও মোহা. শফিকুল ইসলাম পদত্যাগ করেননি।
পিএসসির এক কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত তাঁদের পদত্যাগের কোনো চিঠি আমাদের কাছে আসেনি। তাঁরা ই–মেইলও করেননি।’
হেলালুদ্দিন আহমদ স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আর শফিকুল ইসলাম ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৩৪তম কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ পদে যোগদানের আগে তিনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পদত্যাগ করা সদস্যরা হলেন সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব ফয়েজ আহম্মদ, সাবেক অধ্যাপক উত্তম কুমার সাহা, সাবেক নির্বাহী পরিচালক জাহিদুর রশিদ, অধ্যাপক মুবিনা খন্দকার, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব কে এম আলী আজম, সাবেক সচিব খলিলুর রহমান, মাউশির সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক, সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব মাকছুদুর রহমান, সাবেক সচিব নাজমানারা খাতুন, এন সিদ্দিকা খানম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পাণ্ডে।
এ সপ্তাহের মধ্যেই পিএসসির সংস্কার দাবি করে চাকরির পরীক্ষাগুলো শুরু করার দাবি জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম। গত শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এ দাবি করেন তিনি। সারজিস বলেন, এ সপ্তাহের মধ্যে পিএসসি সংস্কার করে চাকরিপ্রত্যাশীদের চাকরির পরীক্ষাগুলো শুরু করতে হবে। যে তরুণ প্রজন্ম এই অভ্যুত্থানের অগ্রনায়ক, তাঁদের প্রায়োরিটির কথা ভুলে গেলে চলবে না।