গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
নাটোরের সিংড়া থানার এক উপপরিদর্শকের বিরুদ্ধে উঠল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। গভীর রাতে চোরকে আটক না করে চুরি যাওয়া একটি ফ্রিজ নিজেই কিনে নিলেন তিনি। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম মো. নজরুল ইসলাম।ঘটনাটি ঘটেছে প্রায় দেড় মাস আগে।
তবে শনিবার (২৩ মে) ভুক্তভোগী আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেওয়ার পর বিষয়টি সবার সামনে আসে।
সিংড়া পৌর এলাকার চাঁদপুর মহল্লার বাসিন্দা জামাল উদ্দিনের ছোট ছেলে মাসুম আলী মাদকাসক্ত। দেড় মাস আগে সে তার বড় ভাই মুনছের আলীর বাসা থেকে একটি ফ্রিজসহ নানা মালামাল চুরি করে নিয়ে পালায়। গভীর রাতে ভ্যানগাড়িতে চাপিয়ে সেই মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সময় নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের সিংড়া বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স-সংলগ্ন এলাকায় টহলরত এসআই নজরুল ইসলাম ভ্যানটি আটক করেন। সেই সুযোগে মাসুম পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী সাজু আহমেদ ভুন্ডু ও আবু হানিফের দাবি, এরপর এসআই নজরুল ইসলাম পথচারীদের সহায়তায় জব্দ করা ফ্রিজসহ অন্যান্য মালামাল নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। পরদিন সকালে মাসুম সেখানে গিয়ে চুরির কথা স্বীকার করলে এসআই ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে মাত্র ১১ হাজার ৫০০ টাকায় ফ্রিজটি কিনে নেন।
ঘটনা জানাজানি হলে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে মালামাল ফেরতের দাবি জানান।
মুনছের আলী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “আমার ছোট ভাই আমার বাসা থেকে ফ্রিজ চুরি করেছিল। পরে বিষয়টি জানতে পেরে থানায় অভিযোগ করি।”
তার মা মর্জিনা বেগম সংবাদ মাধ্যমকে জানান, “ফ্রিজ চুরির পর জানতে পারি, পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম সেটি নিয়েছেন। পরে টাকা দিয়ে ফ্রিজটি ফেরত নিতে হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, শনিবার সিংড়া সার্কেল অফিসে আপোস-মীমাংসার মাধ্যমে ফ্রিজটি শেষ পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও এসআই নজরুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে তিনি নিজেকে আড়ালে রেখে চলছেন।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রয়োজন নেই। এতে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে।” অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি দ্রুত মীমাংসার মাধ্যমে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
সিংড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নূর মোহাম্মদ আলী অবশ্য দাবি করেছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। জেলা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
নাটোরের পুলিশ সুপার শরিফুল হক সংবাদ মাধ্যমকে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর সিংড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের পর যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।