বড় চুক্তির প্রত্যাশায় ধনী তিন দেশে সফরে যাচ্ছে ট্রাম্প

বড় চুক্তির প্রত্যাশায় ধনী তিন দেশে সফরে যাচ্ছে ট্রাম্প

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় দফার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে আগামী সপ্তাহে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে যাচ্ছেন। ১৬ মে পর্যন্ত চলবে এই সফর। এই তিন ধনী উপসাগরীয় দেশ ইতোমধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে এবং এখন সেই সম্পর্ককে স্থায়ী ও লাভজনক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের ‘লেনদেননির্ভর’ পররাষ্ট্রনীতির সুযোগ নিতে চায় এই দেশগুলো। তারা একদিকে মার্কিন অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, অন্যদিকে নিজ নিজ কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের পথে এগোচ্ছে।

সৌদি আরব: নিরাপত্তা চুক্তির প্রত্যাশা

ট্রাম্পের সফরে সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা সৌদি আরবের—নিরাপত্তা। দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা চুক্তি চেয়ে আসছে। ২০২৩ সালে এই বিষয়ে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হলেও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি প্রশ্নে তা আটকে যায়।

এছাড়া সৌদি আরব চায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলতে। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার নিয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি উদ্বেগ রয়েছে। তবুও সৌদি আরব বিশাল বিনিয়োগ পরিকল্পনার মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে পাশে পেতে চায়। জানুয়ারিতে দেশটি ঘোষণা দেয়, তারা আগামী চার বছরে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ করবে যুক্তরাষ্ট্রে।

আমিরাত: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নেতৃত্বে পৌঁছাতে চায়

অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের মাধ্যমে তাদের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায়। মার্চে তারা ঘোষণা দেয় ১০ বছরে ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), চিপ, উৎপাদনশিল্প ও জ্বালানি খাতে।

তবে AI প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ট্রাম্প এই সফরে সেই বিধিনিষেধ বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন, যা আমিরাতের জন্য বড় সুবিধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

কাতার: কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্ত করতে চায়

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সবচেয়ে আনুষ্ঠানিক সামরিক সম্পর্ক রয়েছে কাতারের। দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিকে ওয়াশিংটন ‘অপরিহার্য’ বলে অভিহিত করে। ২০২৩ সালে কাতার ও যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি নবায়ন করেছে।

কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় কাতার আফগানিস্তান, গাজা ও সিরিয়াসহ নানা সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। এবার তারা ট্রাম্পের সফরে সিরিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানাতে পারে।

লেনদেনের কূটনীতি

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প এই সফরে এসেছেন কারণ তিনি মনে করেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এবং হয়তো তার নিজের ও তার ঘনিষ্ঠদের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। তিনটি দেশই বড় চুক্তির প্রত্যাশায় রয়েছে।

“ট্রাম্প এখানে এসেছেন কারণ তিনি বিশ্বাস করেন—এই চুক্তিগুলো আমেরিকা ও তার জন্য লাভজনক,” বলেন ইউরেশিয়া গ্রুপের মধ্যপ্রাচ্য প্রধান ফিরাস মাকসাদ।

সূত্র: সিএনএন, বিবিসি