মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন বি-টু বোমারু বিমান প্রশান্ত মহাসাগরে মোতায়েন

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন বি-টু বোমারু বিমান প্রশান্ত মহাসাগরে মোতায়েন

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর গুয়াম দ্বীপে বি-টু বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে বলে জানিয়েছে দুই মার্কিন কর্মকর্তা।

শনিবার (২১ জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

যদিও এ মোতায়েন সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বি-২ বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী স্টিলথ অস্ত্র বহনকারী বিমান। এটি ৩০,০০০ পাউন্ড ওজনের ‘Massive Ordnance Penetrator (GBU-57)’ বহনে সক্ষম, যা মাটির অনেক গভীরে অবস্থানরত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে ব্যবহৃত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো, বিশেষ করে ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এই অস্ত্র ব্যবহার হতে পারে।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত গুয়ামের বাইরে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কোনো ‘ফরোয়ার্ড অর্ডার’ দেওয়া হয়নি। তারা ঠিক কতটি বি-২ বোমারু বিমান গুয়ামে পাঠানো হয়েছে, তাও জানাতে রাজি হননি। পেন্টাগনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ডিয়েগো গার্সিয়ার দিকে নজর

বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, গুয়ামের পর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কৌশলগত অবস্থান হতে পারে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন-যুক্তরাজ্য যৌথ সামরিক ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়া। মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত উপযোগী এই ঘাঁটিতে গত মাস পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র B-2 বোমারু বিমান মোতায়েন রেখেছিল, পরে সেখানে বি-৫২ বোমারু বিমান মোতায়েন করা হয়।

ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা তুঙ্গে

এদিকে, ইসরায়েল জানিয়েছে, চলমান এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা বিমান হামলা ও পাল্টা হামলার মধ্যে তারা এক অভিজ্ঞ ইরানি সামরিক কমান্ডারকে হত্যা করেছে। অন্যদিকে, তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হুমকির মুখে তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনায় যাবে না।

ইসরায়েল দাবি করছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে, তবে ইরান তা অস্বীকার করে বলেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্র কী করবে?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইসরায়েলের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে জড়াবেন কিনা, সে সিদ্ধান্ত নিতে দুই সপ্তাহ সময় নেবেন। তিনি বলেন, “মানুষ সমঝোতায় আসে কি না, তা দেখার জন্য এ সময় নেওয়া হবে।”

এর আগে রয়টার্স জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সংখ্যক ট্যাংকার বিমান ও অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। এছাড়া ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অবস্থানরত একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীকেও মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মোতায়েনের বর্তমান গতিপ্রকৃতি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করছে যে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। বি-২ বোমারু বিমান মোতায়েন কেবল প্রতিরক্ষামূলক নয়, এটি একটি সম্ভাব্য আগ্রাসী অভিযানের কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবেও ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।