গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যায় গ্রেপ্তার ৭

গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যায় গ্রেপ্তার ৭

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সাংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শনিবার (৯ আগস্ট) সকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উপ-কমিশনার রবিউল হাসান সংবাদ মাধ্যমকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, গাজীপুরের সদর উপজেলার ভবানীপুর থেকে ফয়সাল ওরফে কেটু মিজান, তার স্ত্রী গোলাপী এবং সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজধানীর উত্তরার তুরাগ এলাকা থেকে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই ঘটনায় গাজীপুর সদর উপজেলার হোতাপাড়া এলাকা থেকে স্বাধীন নামে একজনকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করে। এছাড়া ময়মনসিংহের গফরগাঁও থেকে শাহজালাল এবং গাজীপুরের বাসন এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উপ-কমিশনার রবিউল হাসান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রত্যেকেই সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হত্যার কারণ ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সঠিক তথ্য যাচাই করে পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে।

উল্লেখ্য : নিহত মো. আসাদুজ্জামান তুহিন (৩৮) দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ–এর গাজীপুরের চিফ রিপোর্টার ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৭টার দিকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা মসজিদ মার্কেট এলাকায় দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর চিফ রিপোর্টার তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামে।

ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক নারী একজনকে নাজেহাল করছেন। ওই ব্যক্তি নারীটির প্রতি ক্ষিপ্ত হলে হঠাৎ কয়েকজন যুবক রামদা ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। তখন ওই ব্যক্তি পালিয়ে যান। এ সময় পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন সাংবাদিক তুহিন, যিনি ঘটনাটি ভিডিও করছিলেন। দুর্বৃত্তরা বিষয়টি টের পেয়ে তাঁকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে চৌরাস্তা এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তুহিন দেখতে পান জনৈক বাদশা (৩৫) নামে এক ব্যক্তি একটি ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন করে যাওয়ার পথে অজ্ঞাত এক নারী তাকে বিরক্ত করছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাদশা ওই নারীর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় উৎ পেতে থাকা অজ্ঞাত কয়েকজন তাদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বাদশাকে কুপাতে থাকে। ঘটনাটি তুহিন ভিডিও করতে থাকেন। একপর্যায়ে বিষয়টি দুর্বৃত্তদের নজরে আসে। পরে তারা তুহিনকে ধাওয়া করে। তিনি দৌড়ে মসজিদ মার্কেটের উত্তর পাশে জনৈক রুহুল আমিনের চায়ের দোকানের সামনে গেলে তাঁকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।

শুক্রবার দুপুরে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে চান্দনা ঈদগাহ মাঠে জুমার নামাজের পর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।