কালীগঞ্জে কুমারী কিশোরীর গর্ভপাত, নবজাতকের লাশ উদ্ধার: কিশোর গ্রেপ্তার

কালীগঞ্জে কুমারী কিশোরীর গর্ভপাত, নবজাতকের লাশ উদ্ধার: কিশোর গ্রেপ্তার

নিজস্ব সংবাদদাতা : কালীগঞ্জে বিসমিল্লাহ ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড ট্রমা জেনারেল হাসপাতালে ১৫ বছর বয়সী এক কুমারী কিশোরীর গর্ভপাতের পর জন্ম নেয়া নবজাতকের লাশ উদ্ধারের পর এক তরুণকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গর্ভপাতের বিষয়টি অস্বীকার করছে।

রোববার (৫ অক্টোবর) গ্রেপ্তার কিশোরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার কিশোর দক্ষিণ ভাদার্ত্তী এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে তুহিন ইসলাম (১৬)। সে স্থানীয় স্বনামধন্য একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র এবং ভুক্তভোগী কিশোরীর চাচাতো ভাই।

ভুক্তভোগী কিশোরী একই এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় স্বনামধন্য একটি গার্লস স্কুলের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

আলোচিত এই ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

এর মধ্যে ৩ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাতে বিসমিল্লাহ ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড ট্রমা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক শহীদ মুন্সি একটি মামলা করেছেন (মামলা নং ৫(১০)২৫)।

তিনি মামলায় অভিযোগ করেছেন, পেনাল কোডের ৩১৮ ধারায় “নবজাতক মৃতদেহ গোপনভাবে জন্ম গোপন করার অপরাধ”।

এজাহারে উল্লেখ করেন, তিনি মাঝে মাঝে হাসপাতাল আসেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চলে যান। গত ৩ অক্টোবর দুপুর ১টায় তিনি হাসপাতালে গিয়ে তার চেম্বারে থাকাকালীন, দুপুর ২:৩০ মিনিটে হাসপাতালের কর্মী ফাতেমা (৩০) হাসপাতালের দক্ষিণ পাশের মহিলা ওয়াশ রুমের ময়লার ঝুড়িতে একটি নবজাতক শিশুর লাশ দেখতে পান। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় মেয়ে নবজাতকের মুখে সাদা টিস্যু গোঁজা এবং নাভীর ২ ইঞ্চি উপরে ছেঁড়া। শিশুটি মৃত অবস্থায় ছিল। পুলিশকে খবর দেওয়ার পর সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়।

অপরদিকে, ৫ অক্টোবর ভোর রাতে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং ৭(১০)২৫)।

মামলায় উল্লেখ করেছেন, দশম শ্রেণীর পড়ুয়া অবিবাহিত মেয়ের পেটে ব্যথা অনুভূত হলে গত শুক্রবার সকালে তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক কিছু পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। এরপর দুপুর ১২:১০ মিনিটে এক আত্মীয়ের সঙ্গে মেয়ে বিসমিল্লাহ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যায়। পরীক্ষার জন্য ১৫শ টাকা জমা দেওয়া হয়। পরে মেয়ে ওয়াশ রুমে গিয়ে ২০–২৫ মিনিট পর বাইরে এসে বাড়িতে চলে আসে। পরে হাসপাতাল থেকে নবজাতকের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ তলব করলে কিশোরীকে থানায় নেওয়া হয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মেয়ে জানায়, গত ৬ মার্চ বিকেলে অভিযুক্ত তুহিন ইসলাম তাকে তার কক্ষে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এছাড়াও পরে একাধিকবার অগোচরে ধর্ষণের কারণে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়। লোক লজ্জার ভয়ে ঘটনাটি গোপন রাখে। উদ্ধার হওয়া নবজাতক তার ও তুহিনের।

পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণের মামলা দায়েরের পর রাতেই তুহিন ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীকেও হেফাজতে নেওয়া হয়। রোববার দুপুরে দুজনকেই পৃথক মামলায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আদালতে পাঠানো প্রতিবেদনে পুলিশ উল্লেখ করেছে, তুহিন ইসলামের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে। তাই তাকে আটক রাখার আবেদন করা হয়েছে।

হাসপাতাল ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিসমিল্লাহ ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড ট্রমা জেনারেল হাসপাতালের এক নার্সের তত্ত্বাবধানে মাঝে মাঝে গোপনে রোগীদের ইচ্ছায় গর্ভপাত করানো হয়। এই ঘটনাও সম্ভবত তেমনই একটি ঘটনা। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে গেছে। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে মামলা করেছে।

বিসমিল্লাহ ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড ট্রমা জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপক বাবুল কাজী বলেন, “ঘটনার দিন আমি ছুটিতে ছিলাম। সব বিষয়ে থানায় তথ্য পাবেন।”

তার হাসপাতালে গর্ভপাত সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি বলেন, “এ ধরনের কিছু এখানে হয় না। তবে অভিযুক্ত নার্স আমাদের হাসপাতালে কর্মরত আছেন।”

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ আলাউদ্দিন জানান, পৃথক মামলায় দু’জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।