গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের পুত্রবধূ তানজিন হামিদ মিতুল।
ঢাকার হাতিরঝিল থানায় শনিবার রাতে তিনি যে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে যুবদলের সাবেক এক নেতাও রয়েছেন।
অভিযোগে মিতুল বলেছেন, তার বোনের বাসায় গিয়ে ওই চারজন এক লাখ টাকা চাঁদা নিয়েছেন।
তার এ অভিযোগ সোমবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায়ও মামলা হিসেবে গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ হয়নি বলে জানিয়েছেন হাতিরঝিল থানার ওসি।
মিতুল বিএনপির ষষ্ঠ মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ারের ছেলে প্রয়াত খন্দকার আব্দুল হামিদ ডাবলুর স্ত্রী। তার বড় বোনের নাম শারমিন ওয়াদুদ নিপা, যিনি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা প্রয়াত আব্দুল ওয়াদুদ খোকনের স্ত্রী। তিনি দুই সন্তান নিয়ে মগবাজারে থাকেন।
অভিযোগে যে চারজনের নাম রয়েছে, তারা হলেন- শাওন (২৫), হাবিব (৩৫), সাজিদ (২২) ও সানি (৩৫)।
মিতুলের সঙ্গে হাতিরঝিল থানায় যাওয়া আসিফ আলম সংবাদ মাধ্যমকে বলছেন, চারজনের মধ্যে হাবিব হাতিরঝিল থানা যুবদলের সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক। বাকিরাও যুবদল ও বিএনপির রাজনীতে যুক্ত।
চাঁদাবাজির কারণ হিসেবে আসিফ আলম সংবাদ মাধ্যমকে বলছেন, নিপার স্বামী ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন, নিপাও যুব মহিলা লীগের যুক্ত ছিলেন। কিন্তু প্রায় এক যুগ আগে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে তিনি দুই সন্তান নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন।
তিনি বলেন, তাদের অতীত রাজনৈতিক পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে কয়েকজন সেখানে চাঁদাবাজি করতে যান। চাঁদা না দিলে নিপাকে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করিয়ে জেলে ভরার হুমকিও দেয় তারা।
পুলিশের কাছে জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগে নিজেকে গৃহিণী পরিচয় দিয়ে মিতুল লিখেছেন, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিপা ফোনে জানান, তার এক লাখ টাকা প্রয়োজন। ফোন পেয়ে তিনি রাত সোয়া ১১টার দিকে বোনের বাসা মগবাজারের গাবতলায় যান।
মিতুলের ভাষ্য, তিনি মামলার চার আসামিকে নিপার বাসায় দেখতে পান। এত রাতে বাসায় ঢোকার কারণ জানতে চাইলে মিতুলকে আসামি শাওন কোমরে থাকা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখান। তারা এক লাখ টাকা দাবি করে ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের কথামতো রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে মগবাজারে ব্যাংকের বুথ থেকে ৮০ হাজার টাকা তুলে সানিকে দেওয়া হয়। সঙ্গে দেওয়া হয় ২০ হাজার টাকার একটি চেক।
অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা আগামী মাসে নিপাকে তার ফ্ল্যাট খালি করে দিতে বলেছে। খালি না করলে নিপা ও তার সন্তানদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর থেকে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
মগবাজারের গাবতলা এলাকাটি পড়েছে হাতিরঝিল থানার মধ্যে।
এ বিষয়ে সোমবার রাত সোয়া ৮টার দিকে থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, মিতুলের অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনাস্থল থেকে সিসি ক্যামেরার ভিডিও দেখে তারা অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
খন্দকার দেলোয়ার হোসেন মানিকগঞ্জ ও ঢাকা থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে তার মৃত্যু হয়। তার ছেলে আব্দুল হামিদ ডাবলুর মৃত্যু হয় গত বছরের ১৬ জুলাই।
সূত্র: বিডিনিউজ