জনগণ এবার ‘ভোট ডাকাতি’ হতে দেবে না: তারেক রহমান

জনগণ এবার ‘ভোট ডাকাতি’ হতে দেবে না: তারেক রহমান

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে ষড়যন্ত্র হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে নেতাকর্মীদের আবারও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এবার জনগণ ‘ভোট ডাকাতি’ হতে দেবে না।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ময়মনসিংহ থেকে শুরু করা প্রচারে মধ্যরাতে গাজীপুরে পৌঁছে ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

রাত পৌনে ১২টার দিকে ময়মনসিংহ থেকে সড়কপথে এসে সভাস্থলে উপস্থিত হন তিনি। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান।

রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে বক্তব্য শুরু করে তারেক রহমান বলেন, ‘‘১২ তারিখ ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। কখন যাবেন? ফজর নামাজ পড়ে নয়, যার যার ভোটকেন্দ্রের সামনে গিয়ে জামাতে ফজর পড়বেন। যাতে আগে থেকে ওখানে কেউ অবস্থান নিতে না পারে।

‘‘কেউ ষড়যন্ত্র করে আগেই যাতে কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে বসে না থাকে, (সেজন্য) সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। গত ১৫/১৬ বছর আপনারা দেখেছেন কীভাবে এই এলাকারসহ সারা বাংলাদেশে আপনাদের যে ভোটের অধিকার সেই অধিকারকে কীভাবে ডাকাতি করে নিয়ে গিয়েছিল? এবার ডাকাতি করতে দেবেন? ভোট ডাকাতি হতে দেবেন? ভোট ডাকাতি করতে দেবেন না।”

তারেক রহমান বলেন, ‘‘এই গাজীপুরের মানুষ কিন্তু প্রমাণ করে দেখিয়েছে ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় এই গাজীপুর থেকে হাজার হাজার মানুষ সেদিন ঢাকা শহরে গিয়েছিল। কাজেই এই যে আমাদের গণতন্ত্রকে যে পুনরুদ্ধার করেছে, স্বাধীনতাকে যে আবার রক্ষা করেছে গাজীপুরের মানুষের বিরাট একটা অবদান আছে।

“কাজেই এই অবদানকে কোনোভাবেই বৃথা দিতে যাওয়া যাবে না।”

‘গাজীপুরবাসীর কাছে আমার হক আছে’

তারেক রহমান নিজের শৈশবের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘‘আপনাদের কাছে আমার একটা হক আছে। এই সেই গাজীপুর এই সেই ভাওয়াল মাঠ যেখানে স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে ছোটবেলায় আমি এই মাঠে অনেক দৌড়াদৌড়ি করেছি, এই মাঠে অনেক খেলেছি।

“এই মাঠের ওইখানে রাজবাড়ি বোধহয় এইদিকে না। ঠিক রাজবাড়ির উল্টোদিকে ওখানে ছোট ছোট দুইটা লাল রঙের বাংলো ছিল আগে। প্রথম যেই বাংলোটা ছিল এখানে মুরুব্বি যারা আছেন তাদের খেয়াল আছে। প্রথম যেই বাংলোটা ছিল ওইটাতে আমরা থাকতাম। আব্বা, আম্মা, আমি আর আমার ছোট ভাই আমরা চারজন ওটাতে থাকতাম। কাজেই ছোটবেলাটা আমার এই গাজীপুরের এই জায়গায়টায় কেটেছে আমার। কাজেই গাজীপুরের মানুষ কাছে আমারও একটি হক আছে, ওই হিসাবে আপনাদের কাছে আমারও দাবি থাকলো ধানের শীষকে জয়যুক্ত করবেন।”

সমাবেশে গাজীপুর- ১ আসনে মজিবুর রহমান, গাজীপুর-২ আসনের এম মনজুরুল করীম রনি, গাজীপুর-৩ আসনের এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-৪ আসনের শাহ রিয়াজুল হান্নান এবং গাজীপুর-৫ আসনের ফজলুল হক মিলনকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদেরকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

‘স্বৈরাচার গেছে, এখন দেশ গড়তে হবে’

ময়মনসিংহে সমাবেশ করে সড়ক পথে গাজীপুরে আসেন বিএনপি চেয়ারম্যান। সেখানে অন্য সমাবেশগুলোর মত দীর্ঘ সময় ধরে তার অপেক্ষায় ছিলেন নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্খীরা।

সমাবেশে তিনি বলেন, ‘‘আন্দোলন হয়েছে সংগ্রাম হয়েছে, স্বৈরাচার বিদায় হয়েছে দেশ থেকে। এখন হচ্ছে দেশ গড়ার পালা, এখন হচ্ছে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার সময়।

‘‘কাজেই আমাদেরকে পরিশ্রম করতে হবে, আমাদেরকে কাজ করতে হবে, আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, আমরা যদি কাজ করি, আমরা যদি পরিশ্রম করি, ইনশাআল্লাহ ধীরে ধীরে আমরা আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে সক্ষম হব।”

গাজীপুরে আরও নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, শিল্প-প্রতিষ্ঠানে শিশুদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন, যানজট নিরসনে জয়দেবপুর রেল ক্রসিংয়ের ওপরে ফ্লাইওভার নির্মাণ, খাল খনন, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড দেওয়াসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘‘আমার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে।”

গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে এবং এম মঞ্জুরুল করিম রনি ও চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় জেলার পাঁচ প্রার্থী ছাড়াও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, কেন্দ্রীয় নেতা বেনজীর আহমেদ টিটো, হুমায়ুন কবির খান, মাজহারুল আলম, ওমর ফারুক শাফিন, খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, মোতালেব হোসেন, হুমায়ুন কবির সরকার, আবু তাহের মুসল্লী, সরকার জাবেদ আহমেদ সুমনসহ নেতারা বক্তব্য রাখেন।