২০ বছর পর ক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি, কেমন হবে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা?

২০ বছর পর ক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি, কেমন হবে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা?

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয় পেয়ে প্রায় দুই দশক পর একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে সরকার গঠনের পথে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন দলটি।

ইতিমধ্যেই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা করেছেন, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন সরকার গঠন করা হবে। অন্য দিকে অন্তর্বর্তী সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে, নবনির্বাচিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য ৪৫টি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পদে বসতে চলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান—এমনটাই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

কেমন হবে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা, কারা স্থান পেতে পারেন—তা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সচিবালয় থেকে শুরু করে অফিস-আদালত, ব্যবসায়ী মহল এমনকি চায়ের দোকানেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু নতুন মন্ত্রিসভা।

দলীয় সূত্রের দাবি, একাধিক শীর্ষ নেতা ও টেকনোক্র্যাটকে নিয়ে গড়া হতে পারে এই মন্ত্রিসভা। কার হাতে কোন দপ্তর— তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি কৌতূহল।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রের খবর, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে এবার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। ২০০১ সালে তিনি কৃষি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এবার তাঁকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে বলে আলোচনা চলছে।

ঢাকা-৮ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারীর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জয় পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। রাজধানীর অন্যতম আলোচিত এই আসনে জয়ের পর তাঁকে আবারও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন জোরালো।

পুরনো মুখ, নতুন দপ্তর
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন ড. আব্দুল মঈন খান। পাশাপাশি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে পররাষ্ট্র অথবা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে।

২০০১ সালে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী থাকা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে এবার পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী করা হতে পারে বলে আলোচনা চলছে।

আইন অথবা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের জন্য আলোচনায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

স্বাস্থ্য, অর্থ ও শিক্ষা— তিন দপ্তরে নতুন নাম
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সিরাজগঞ্জের সাংসদ ড. এম এ মুহিতের নাম শোনা যাচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী পদে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এম এস কিবরিয়ার পুত্র ড. রেজা কিবরিয়া।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার নামও ঘুরছে।

টেকনোক্র্যাট কোটায় ‘চমক’
দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবারের নির্বাচনে অংশ নেননি। তবে তাঁকে টেকনোক্র্যাট কোটায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী করার আলোচনা রয়েছে। এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মওদুদ আলমগীর পাভেলের নাম শোনা যাচ্ছে।

কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।

শ্রমমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন খন্দকার আবু আশফাক।

মহিলা নেত্রীদের মধ্যে শামা ওবায়েদকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুলকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।

পররাষ্ট্র ও তথ্যপ্রযুক্তিতে নতুন মুখ?
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পদে টেকনোক্র্যাট কোটায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবিরের নাম ঘুরছে।

তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

জোট শরিকদের জন্য দপ্তর?
বিএনপির শরিক জোট থেকেও কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁদের মধ্যে আছেন আন্দালিব রহমান পার্থ, ববি হাজ্জাজ, নুরুল হক নূর ও জোনায়েদ সাকি।

এ ছাড়া সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রকিবুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল এবং ব্যারিস্টার মীর হেলালকে।

স্পিকার পদেও জল্পনা
জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও মুলাদী-বাবুগঞ্জের সাংসদ অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

সব মিলিয়ে, নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আগে বিএনপির অন্দরমহলে এখন নামের মিছিল। কার হাতে কোন দপ্তর উঠবে— তা নিয়ে অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।