কালীগঞ্জে সেনা অভিযানে তিন সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, ইয়াবা-অস্ত্র-টাকা উদ্ধার

কালীগঞ্জে সেনা অভিযানে তিন সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, ইয়াবা-অস্ত্র-টাকা উদ্ধার

নিজস্ব সংবাদদাতা : কালীগঞ্জ পৌরসভার দেওপাড়া এলাকায় মধ্যরাতে সেনাবাহিনীর ৯ আর্টিলারি ব্রিগেডের নেতৃত্বে পরিচালিত এক যৌথ অভিযানে তিনজন চিহ্নিত মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, গাঁজা, দেশীয় অস্ত্র ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সেনা সদর দফতর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে কালীগঞ্জ পৌরসভার দেওপাড়া এলাকায় সেভেন রিংস সিমেন্ট কারখানার ৬ নম্বর গেট সংলগ্ন খেয়াঘাট সড়কে এই অভিযান পরিচালিত হয়। এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারিদের আস্তানা হিসেবে পরিচিত বলে জানান স্থানীয়রা।

গ্রেপ্তার তিনজন হলো— দেওপাড়ার বাসিন্দা কবির মিয়ার ছেলে আল-আমিন (৩১), আনোয়ার হোসেনের ছেলে আবিদ হাসান (৩১) এবং আব্দুল বাতেনের ছেলে সিয়াম আহমেদ (২১)।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে সুপরিকল্পিতভাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান এতটাই দ্রুতগতির ছিল যে পালানোর কোনো সুযোগ পাননি অভিযুক্তরা। অভিযানে জব্দ করা হয়েছে ৩৯৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪০ গ্রাম গাঁজা, বিপুল সংখ্যক দেশীয় অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ ৫৬ হাজার ২০০ টাকা এবং তিনটি মোবাইল ফোন।

তদন্তকারীরা মনে করছেন, জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলো বিশ্লেষণ করলে মাদক সরবরাহের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

গ্রেপ্তারের পরপরই তিনজনের বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নম্বর ১৭(২)/২৬)। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সেনা সদর দফতর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সারা দেশে নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা জারি থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণ নাগরিকদের প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে — এলাকায় কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ চোখে পড়লে দেরি না করে নিকটবর্তী সেনাশিবিরে যোগাযোগ করতে। মাদকমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গড়তে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য বলে মনে করে সেনাবাহিনী।