বিশেষ প্রতিনিধি : গাজীপুরে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে অধিকাংশ পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে জেলায় অতিরিক্ত এক হাজার শিল্প পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে জানান, গাজীপুরে মোট ২ হাজার ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ কারখানায় শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কিছু কারখানায় এখনো বোনাস বাকি রয়েছে। সেগুলোও দ্রুত পরিশোধ করা হবে।’
ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রাখতে গাজীপুরে অতিরিক্ত এক হাজার শিল্প পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলেও জানান তিনি।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ফিরতে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। গাজীপুরের ওপর দিয়ে যাওয়া ব্যস্ততম ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ধীরে ধীরে শুরু হয়েছে ঈদযাত্রা। তবে এখন পর্যন্ত এই দুই মহাসড়কে বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়নি। দূরপাল্লার বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন তুলনামূলক স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করছে।
সোমবার সকাল থেকে গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া বাইপাস, টঙ্গী ও গাজীপুরা বাসস্ট্যান্ডসহ মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সরেজমিনে দেখা গেছে, যানবাহনের চাপ তেমন বেশি নয়। ফলে যানজট ছাড়াই যান চলাচল হচ্ছে এবং যাত্রীরা তুলনামূলক স্বস্তিতে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং নিয়মিত টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। যেকোনো ধরনের যানজট বা দুর্ঘটনা দ্রুত মোকাবিলার জন্য বিশেষ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, পোশাক কারখানাগুলো ছুটি ঘোষণা করলে হঠাৎ করে গাড়ি ও যাত্রীর চাপ বাড়তে পারে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
মাওনা হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘এবারের ঈদযাত্রায় মহাসড়কে বড় ধরনের যানজট হবে না বলে আশা করা হচ্ছে। গাজীপুরের শিল্পকারখানার শ্রমিকরা যাতে নির্বিঘ্নে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে পারেন, সে জন্য মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।’
স্থানীয় বাসচালক ও যাত্রীরা জানান, আগের বছরগুলোর তুলনায় এবারের ঈদযাত্রার শুরুটা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক। তবে সামনের দিনগুলোতে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।