ইরানের হামলায় তেল আবিবে নিহত ২, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ তীব্রতর

ইরানের হামলায় তেল আবিবে নিহত ২, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ তীব্রতর

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নিজেদের নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানিসহ একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা হত্যার জবাবে তেল আবিবে ক্লাস্টার ওয়ারহেড বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, ইসলামিক রেভ্যুলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এই হামলায় খোররামশাহর-৪ এবং কাদর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, উভয়টিতেই ছিল একাধিক ওয়ারহেড।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘনবসতিপূর্ণ তেল আবিবের কাছাকাছি একটি এলাকায় এই হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এর ফলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ১৪ জনে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বুঝতে পারছে না যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র একটি সুদৃঢ় রাজনৈতিক ব্যবস্থার উপর দাঁড়িয়ে আছে — এটি কোনো একক ব্যক্তির উপর নির্ভরশীল নয়। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৃত্যু রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো বিঘ্ন ঘটাবে না।

এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনি যুদ্ধবিরতির সব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, খামেনি বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরাজয় স্বীকার করে ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত শান্তির প্রশ্ন অবান্তর।

ইসরায়েলি বিমান হামলায় বুধবার বৈরুতে কমপক্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। হিজবুল্লাহ-নিয়ন্ত্রিত বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতেও ব্যাপক বিমান হামলা চলছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত লেবাননে ৯০০-এরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৮ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া হতে বাধ্য হয়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হত্যার প্রতিশোধ নিতে গত ২ মার্চ ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর থেকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে এই অভিযান চলছে।

মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের উপকূলীয় স্থাপনাগুলোতে শক্তিশালী ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা নিক্ষেপ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশের গুরুত্বপূর্ণ এই পথ মূলত বন্ধ হয়ে আছে, কারণ ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তেলবাহী জাহাজে হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ১৯৭০-এর দশকের পর সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলের দাম প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে দিয়েছে, জুন পর্যন্ত যুদ্ধ চললে কোটি কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়বেন।

ন্যাটোভুক্ত অধিকাংশ দেশ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে সামরিক সহায়তা দিতে অস্বীকার করেছে। এ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, এটি ‘অত্যন্ত বোকামির সিদ্ধান্ত’।

এরই মধ্যে মার্কিন জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রের প্রধান জোসেফ কেন্ট পদত্যাগ করেছেন। তাঁর পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো আসন্ন হুমকি সৃষ্টি করেনি।

আরাকচি জানিয়েছেন, ইরান শুধু মার্কিন ঘাঁটিতেই হামলা সীমাবদ্ধ রাখেনি; যেখানেই মার্কিন সেনা সমাবেশ ছিল, সেখানেই হামলা চালানো হয়েছে। ইরানি হামলায় উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোয় — বিশেষত সংযুক্ত আরব আমিরাতে — মার্কিন কূটনৈতিক মিশন, সামরিক ঘাঁটি, তেল অবকাঠামো, বন্দর, বিমানবন্দর এবং আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে ২

ইরান-ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হ্রানার তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর ইরানে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

সূত্র: রয়টার্স