ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, ক্রু উদ্ধারে অভিযান চলছে

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, ক্রু উদ্ধারে অভিযান চলছে

রয়টার্স

ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। বিমানটির ক্রু সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। দুজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রায় পাঁচ সপ্তাহ আগে যুদ্ধ শুরুর পর এটিই প্রথম এ ধরনের ঘটনা।

পেন্টাগন ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

মার্কিন পাইলটরা যদি জীবিত থেকে ইরানের অভ্যন্তরে পালিয়ে বেড়ান, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই সংঘাত ইতিমধ্যে মার্কিন জনমতে তেমন সমর্থন পাচ্ছে না বলে জনমত জরিপে উঠে এসেছে। এ অবস্থায় বেঁচে থাকা ক্রু সদস্যদের উদ্ধার এবং উদ্ধারকারী দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা — এই দুই লক্ষ্য একসঙ্গে পূরণ করাটা মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ধ্বংসাবশেষের ছবি।

ইরানি কর্মকর্তারা বিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন এবং নাগরিকদের বেঁচে থাকা ক্রু সদস্যদের খোঁজে সজাগ থাকতে বলেছেন। কোহগিলুয়েহ ও বোয়্যার-আহমাদ প্রদেশের গভর্নর বলেছেন, যে কেউ ক্রু সদস্যদের আটক বা হত্যা করতে পারলে তাঁকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হবে বলে দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ইসনা জানিয়েছে।

এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত এবং ৩০০-র বেশি আহত হয়েছেন বলে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন সেনাকে ইরান বন্দি করেনি।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে ইরানের সামরিক শক্তি ভেঙে পড়েছে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইরানের কাছে এখনও বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত রয়েছে। গত সপ্তাহ পর্যন্ত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডারের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ নিশ্চিতভাবে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বাকি প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বিষয়ে এখনও স্পষ্ট ধারণা নেই — ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ও বাংকারে বোমা হামলায় সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত, ধ্বংস বা মাটিচাপা পড়ে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, মার্কিন শর্তে যুদ্ধ বন্ধে রাজি না হলে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ও পানি বিশোধন কেন্দ্রগুলোতে হামলা করা হবে।