কালীগঞ্জে এলপিজি প্ল্যান্টে অভিযান, বিএম এনার্জিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

আবাসিক ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এবং শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী ভূমি দখল করে জালিয়াতির মাধ্যমে নথিপত্র সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে।

কালীগঞ্জে এলপিজি প্ল্যান্টে অভিযান, বিএম এনার্জিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব সংবাদদাতা

সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বোতলজাত এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগে কালীগঞ্জে বিএম এনার্জি বিডি লিমিটেডের প্ল্যান্টে যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। পরে মোবাইল কোর্টে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে কালীগঞ্জ পৌরসভার মূলগাঁও এলাকায় অবস্থিত ওই প্ল্যান্টে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে এই অভিযান চালানো হয়। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সাল।

মোবাইল কোর্ট ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ পৌরসভার বালীগাঁও ও মূলগাঁও মৌজায় দুই একরের বেশি জমিতে গড়ে উঠেছে বিএম এনার্জি বিডি লিমিটেডের প্ল্যান্ট। সেখানে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংরক্ষণ ও সিলিন্ডারজাত করে বিতরণ করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি দেশব্যাপী জ্বালানি সংকটের সুযোগে তারা ডিলারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ ওঠে। সরকার নির্ধারিত পাইকারি মূল্যে প্রতিটি সিলিন্ডার ১ হাজার ৬৩৩ টাকায় চালান করা হলেও ডিলারদের কাছ থেকে ব্যাংকের মাধ্যমে নেওয়া হতো ১ হাজার ৭৪৫ টাকা। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ দাবি করে, পরবর্তীতে এই অতিরিক্ত অর্থ সমন্বয় করে দেওয়া হয়। তবে ডিলারদের অভিযোগ, প্রতি সিলিন্ডারে ২০ থেকে ৩০ টাকা ভাড়া বাবদ কেটে রাখা হলেও বাকি টাকা আর সমন্বয় করা হয় না।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সালের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে চালান ও ডিলারদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের মধ্যে গরমিল পাওয়া যায়। এ সময় কয়েকজন ডিলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের বিষয়ে অভিযোগ করেন। পরে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৫৬-এর ৬(১) ধারায় মোবাইল কোর্টে বিএম এনার্জি বিডি লিমিটেড কর্তৃপক্ষকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

উল্লেখ্য, শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আবাসিক ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এবং শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী ভূমি দখল করে জালিয়াতির মাধ্যমে নথিপত্র সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার চকবাজারস্থ সুগন্ধা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মরহুম নাজির আহমেদের পুত্র মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি নিজের আসল ঠিকানা গোপন করে ২০১৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কালীগঞ্জ পৌরসভা থেকে বালীগাঁও এলাকার স্থানীয় ও স্থায়ী বাসিন্দা পরিচয়ে নাগরিক সনদ সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে ওই সনদের ভিত্তিতে অন্যান্য কাগজপত্র তৈরি করে ধাপে ধাপে সব ধরনের ছাড়পত্র নিয়ে বিএম এনার্জি বিডি লিমিটেডের প্ল্যান্ট গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।