লেবানন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত করল ইরান

লেবানন প্রশ্নে ইরান ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের অবস্থান পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনায় ফেরার প্রশ্ন নেই।

লেবানন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত করল ইরান

রয়টার্স

লেবাননে ইসরায়েলি সেনা অভিযান গভীরতর হওয়ার পর তেহরান জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বার্তা বিনিময় আপাতত বন্ধ থাকবে।

ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইসরায়েল লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করার পর ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত করেছে।

সংস্থাটি বলেছে, লেবানন প্রশ্নে ইরান ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের অবস্থান পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনায় ফেরার প্রশ্ন নেই।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, একটি রণাঙ্গনে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন মানে সব রণাঙ্গনে লঙ্ঘন। তিনি বলেন, “এর পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দায়ী থাকবে।”

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রোববার লেবাননে আরও গভীরে সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং সোমবার বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠে হামলার আদেশ জারি করেন।

গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ড্রোনে হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বলে দাবি করে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে এবং কোনো সেনা হতাহত হননি।

কুয়েত এই হামলার নিন্দা করে বলেছে, এটি উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

তাসনিমের প্রতিবেদন প্রকাশের পর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি পাঁচ ডলারের বেশি বেড়ে গেছে। চলমান যুদ্ধে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আগে থেকেই চাপ রয়েছে। তাসনিম আরও জানিয়েছে, ইরান ও তার মিত্ররা বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতেও অবরোধ সক্রিয় করার পরিকল্পনা করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন, ইরান “সত্যিই একটি চুক্তি করতে চায়”। তিনি সমালোচকদের — এমনকি নিজ দলের কাউকাউকে “দেশপ্রেমহীন” বলে আখ্যা দিয়ে — নেতিবাচক মন্তব্য বন্ধ করতে বলেছেন।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগায়ি বলেছেন, ওয়াশিংটন ক্রমাগত অবস্থান বদলাচ্ছে এবং পরস্পরবিরোধী দাবি তুলছে, যা আলোচনাকে দীর্ঘায়িত করছে।

পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা কোটি কোটি ডলারের ইরানি তেল রাজস্ব মুক্তি এবং ইরানের বন্দর অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবিসহ একাধিক ইস্যুতে দুই পক্ষ এখনও দূরে দূরে। লেবাননে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।

পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলে “ধীরে ধীরে উত্তেজনা প্রশমনের” একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন বলে জানা গেছে।