গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তাহলে সেই দেশের “গোটা সভ্যতা আজ রাতেই ধ্বংস হয়ে যাবে”। এই হুমকিকে ঘিরে মার্কিন রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা ট্রাম্পকে পদ থেকে সরাতে সংবিধানের পঁচিশতম সংশোধনী প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ লেখেন, ইরান যদি চুক্তিতে রাজি না হয়, তাহলে “একটি গোটা সভ্যতা আজ রাতে মরে যাবে, যাকে আর ফিরিয়ে আনা যাবে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি এটা চাই না, কিন্তু সম্ভবত এটাই ঘটবে।”
এর আগে ট্রাম্প ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো “সম্পূর্ণ ধ্বংস” করার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে এই নতুন হুমকিতে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন বা কোন উপায়ে তা কার্যকর করতে চান, তা স্পষ্ট নয়।
মার্কিন সিনেটে ডেমোক্র্যাটিক নেতা চাক শুমার ট্রাম্পকে “অত্যন্ত অসুস্থ মানুষ” বলে অভিহিত করেছেন।
এক্সে এক পোস্টে তিনি লেখেন, “যে রিপাবলিকানরা এই অযৌক্তিক যুদ্ধের বিরুদ্ধে ভোট দিতে অস্বীকার করছেন, তাঁরা এই পরিণতির প্রতিটির দায় বহন করবেন।”
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেছেন, “ট্রাম্প আমাদের তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঠেলে দেওয়ার আগেই কংগ্রেসকে এই বেপরোয়া যুদ্ধ থামাতে হবে। প্রতিটি রিপাবলিকানের উচিত দলীয় স্বার্থের ওপরে দেশপ্রেমকে স্থান দেওয়া।”
কংগ্রেসওম্যান রশিদা তালাইব ট্রাম্পকে “হোয়াইট হাউসের যুদ্ধাপরাধী” এবং “পাগল” বলে আখ্যা দিয়ে পঁচিশতম সংশোধনী প্রয়োগের মাধ্যমে তাঁকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “একটি স্কুলে বোমা মেরে তরুণীদের হত্যার পর হোয়াইট হাউসের এই যুদ্ধাপরাধী এখন গণহত্যার হুমকি দিচ্ছেন।”
একসময়ের ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং সাবেক কংগ্রেসওম্যান মার্জোরি টেলর গ্রিনও পঁচিশতম সংশোধনী প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্পের এই হুমকিকে “মন্দ ও পাগলামি” বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমেরিকায় এখন পর্যন্ত একটি বোমাও পড়েনি। আমরা একটি গোটা সভ্যতাকে হত্যা করতে পারি না।”
সাবেক মার্কিন সন্ত্রাসবিরোধী প্রধান জো কেন্ট, যিনি ইরানে যুদ্ধের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন, সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্পের এই হুমকির কারণে আমেরিকা “এখন বিপদে পড়েছে।” তিনি বলেন, “ইরানি সভ্যতাকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র আর বিশ্বে স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে বিবেচিত হবে না, বরং বিশৃঙ্খলার দূত হিসেবে পরিচিত হবে।” কেন্ট আরও যোগ করেন, এই পদক্ষেপ “আমাদের অর্থনীতি ধ্বংস করবে এবং বিশ্ব-ব্যবস্থাকে চুরমার করে দেবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, ট্রাম্প এখনও সংলাপের পথ বেছে নিলে বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব।
সাংবাদিক পিয়ার্স মরগান এই হুমকিকে ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে “গণহত্যার সুস্পষ্ট পূর্বস্বীকৃতি” বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেছেন এটি “স্পষ্টতই একটি যুদ্ধাপরাধ হবে।”