ইরানের হুঁশিয়ারি: তেল-গ্যাস থেকে বছরের পর বছর বঞ্চিত থাকবে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের হুঁশিয়ারি: তেল-গ্যাস থেকে বছরের পর বছর বঞ্চিত থাকবে যুক্তরাষ্ট্র

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ডস কোর (আইআরজিসি) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ‘লাল রেখা’ অতিক্রম করে, তাহলে তার এবং তার মিত্রদের অবকাঠামোয় পাল্টা হামলা এতটাই ব্যাপক হবে যে তারা বছরের পর বছর এই অঞ্চলের তেল ও গ্যাস থেকে বঞ্চিত থাকবে।

আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে সংস্থাটির নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে। ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ৯৯তম তরঙ্গের অংশ হিসেবে পরিচালিত এই অভিযানে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং আক্রমণকারী ড্রোন ব্যবহার করে পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।

আইআরজিসি জানিয়েছে, হামলার প্রথম পর্যায়ে সৌদি আরবের আল-জুবাইল অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন কোম্পানি সাদারা, এক্সনমোবিল ও ডাউ কেমিক্যালের মালিকানাধীন বৃহত্তম পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স এবং আল-জুআইমাহ অঞ্চলে মার্কিন কোম্পানি শেভরন ফিলিপসের বড় পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও একাধিক কামিকাজে ড্রোন দিয়ে কার্যকর হামলা চালানো হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের খোরফাক্কান বন্দর দিয়ে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর কাছে সামরিক সরঞ্জাম পাঠাচ্ছিল এমন একটি ইসরায়েলি মালিকানাধীন কার্গো জাহাজে ইরানি বাহিনীর গোয়েন্দা অভিযান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, যেকোনোভাবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার চেষ্টাকারী সব জাহাজের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা।

এ ছাড়া ভারত মহাসাগরের গভীরে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরী সিভিএন-৭২-এর ওপর দীর্ঘপাল্লার নৌ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানোর দাবিও করেছে আইআরজিসি।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ও বেসামরিক নাগরিককে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। সেই অভিযানে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো হয়, যাতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এর জবাবে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পরিচালনা করে আসছে।

আইআরজিসি আরও সতর্ক করে বলেছে, এত দিন প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি সদিচ্ছার কারণে সংযম দেখানো হয়েছে এবং প্রতিশোধমূলক লক্ষ্য নির্বাচনে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তবে এখন থেকে সেসব বিবেচনা আর কার্যকর থাকবে না বলে জানানো হয়েছে।