গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীতদের নামের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ৩৬ জনের এ তালিকা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
পরোক্ষ ভোটের এই নির্বাচনে ভোটের জন্য ১২ মে তারিখ রাখা হলেও পদ্ধতিগত কারণে ভোটাভুটির আর দরকার হবে না। অর্থাৎ, দল যাদের মনোনয়ন দিচ্ছে, বাছাইয়ে বাদ না পড়লে তাদের এমপি হওয়া কার্যত নিশ্চিত।
রিজভী বলেন, “এই ৩৬ জন বিএনপি এবং বিএনপি জোট থেকে যাদেরকে সিলেকশন করা হয়েছে, নির্বাচিত করা হয়েছে, তাদের নাম আমি এখানে পাঠ করে শোনালাম। আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।”
তালিকায় আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক রাশেদা বেগম, সহপ্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক রেহেনা আক্তার, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক বিলকিস ইসলাম, বিএনপি সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে শাকিলা ফারজানা, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নেওয়াজ হালিমা আরলী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নীলুফার চৌধুরী, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য মাহমুদা হাবিবা, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবিরা সুলতানা, মায়ের ডাক-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম, সহস্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আক্তার, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌসী আহমেদ, প্রয়াত শফিউল বারীর স্ত্রী বীথিকা বরীর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইনসহ অনেকে।
একনজরে প্রার্থীদের নাম দেখুন এখানে:
১৭ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার শুরু করে বিএনপি। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন দলটির মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা। মনোনয়ন পেতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাত শতাধিক আবেদন জমা পড়ে।
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, ভোটে জয়ী দলগুলোর আসন সংখ্যার অনুপাতে সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ২১ এপ্রিলের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। তা বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ এপ্রিল। দুই সপ্তাহ পর ১২ মে ভোট গ্রহণের তারিখ রাখা হয়েছে।
নিয়ম হল, সংসদের সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। কিন্তু দল বা জোট তাদের বরাদ্দ পাওয়া আসনের সমান সংখ্যক প্রার্থী মনোনয়ন দেয় বলে এ নির্বাচনে আর ভোটের আর প্রয়োজন হয় না।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দিনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি। প্রতি ৬ জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন হবে। সে অনুযায়ী, বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা মিলে ১টি সংরক্ষিত আসন পাবে।