পদত্যাগ করব না, হারিনি: মমতা

ভোট-পরবর্তী হিংসার তদন্তে তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠনেরও ঘোষণা দেন তিনি।

পদত্যাগ করব না, হারিনি: মমতা

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পরও পদত্যাগ করতে রাজি নন তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী ও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মঙ্গলবার (০৫ মে) বিকেলে কালীঘাটে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?’

এই সাংবাদিক বৈঠকে মমতার পাশে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ডেরেক ও’ব্রায়েন ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

পশ্চিমবঙ্গের ২৯৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয় পেয়েছে বিজেপি। তৃণমূল জিতেছে মাত্র ৮০টি আসনে।

মমতা নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি দায়ী করে বলেন, ‘বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াই ছিল না। নির্বাচন কমিশন এখানে একটা কালো ইতিহাস তৈরি করল। কমিশনই ভিলেন হয়েছে।’ তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগে সব জায়গায় অভিযান চালিয়ে কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়েছে এবং বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে যোগসাজশ ছিল। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে দাবি করেন তিনি।

গণনাকেন্দ্রে হামলার অভিযোগও তুলেছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘বিজেপির লোকজন গণনাকেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে মারধর শুরু করে। আমি ১৩ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলাম। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে ওরা গণনাকেন্দ্রে ঢুকে সব ভেঙে দিয়েছে।’ লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ক্ষমতা হারানোর পর নিজেকে ‘মুক্ত বিহঙ্গ’ বলে দাবি করে মমতা বলেন, ‘এত দিন আমি চেয়ারে ছিলাম। অনেক কিছু সহ্য করেছি। কিন্তু এখন আমি মুক্ত। আর সহ্য করব না। সব অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করব। আমি রাস্তার লোক। রাস্তায় ছিলাম, রাস্তায় থাকব।’

ভোট-পরবর্তী হিংসার তদন্তে তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠনেরও ঘোষণা দেন তিনি।

বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা মমতাকে ফোন করে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি। সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরীবাল, উদ্ধব ঠাকরে, অখিলেশ যাদব ও হেমন্ত সোরেন ফোন করেছেন বলে জানান মমতা। তিনি বলেন, ‘জোট আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হবে।’