কালীগঞ্জে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে দুর্ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যু, আহত দুই

দুর্ঘটনার পর অন্তত তিন ঘণ্টা ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।

কালীগঞ্জে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে দুর্ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যু, আহত দুই

বিশেষ প্রতিনিধি

কালীগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের একটি সঞ্চালন লাইনের খুঁটি ভেঙে পড়লে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নিহত হয়েছেন ও দুইজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর অন্তত তিন ঘণ্টা ওই সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।

মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়কের শিমুলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম শিউলি বেগমের (৪৫)। তিনি শিমুলিয়া এলাকার মৃত হাসেন সরকারের মেয়ে এবং তুমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।

আহত দুইজন হলেন বক্তারপুর এলাকার তন্ময় (১৬) এবং তুমুলিয়া মিশন এলাকার পূজা রানী দেবনাথ (২০)। তাদের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে শিমুলিয়া এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের একটি সাবস্টেশন-সংলগ্ন সিমেন্টের খুঁটি ভেঙে সড়কে পড়ে। একই সময়ে তারের টানে আরও অন্তত ১৩টি খুঁটি একে একে মাটি থেকে উঠে সড়কে ও বিলে হেলে পড়ে এবং সড়কজুড়ে বৈদ্যুতিক তার ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় একটি অটোরিকশার ওপর তার পড়লে তন্ময় ও পূজা রানী গুরুতর আহত হন। একই সময়ে শিউলি বেগম বাড়ির পাশের সড়কে দাঁড়িয়ে ছিলেন। খুঁটি ভেঙে পড়ার শব্দে তিনি বাড়ির ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে টঙ্গীগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর সড়কের দুই দিকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা সাতটার দিকে খুঁটি ও তার সরিয়ে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগেও একই এলাকায় একযোগে অন্তত ১০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়েছিল। তবে সে সময় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খুঁটি স্থাপনে একাধিক নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের বিধি অনুযায়ী, একটি খুঁটির মোট দৈর্ঘ্যের ছয় ভাগের এক ভাগ মাটির নিচে থাকতে হয়। সে হিসাবে ৪৫ ফুটের একটি খুঁটি সাড়ে ছয় থেকে সাত ফুট গভীরে পোঁতার কথা। কিন্তু এই খুঁটিগুলো মাত্র তিন থেকে চার ফুট গভীরে পোঁতা হয়েছিল। এ ছাড়া খুঁটিগুলো জলাশয়-সংলগ্ন নরম মাটিতে বসানো হলেও গোড়ায় ‘কংক্রিট মাফিং’, অ্যাঙ্কর বা পাথরকুচি দিয়ে র‍্যামিং কোনোটিই করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী নরম বা জলাশয়-সংলগ্ন মাটিতে এই বাড়তি সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো বাধ্যতামূলক।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, দুর্ঘটনায় একজন নারী শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। 

তিনি জানান, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে কালীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আক্তার হোসেনের সরকারি মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।