ইরানে হামলার জবাবে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা

বন্দর আব্বাস বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন হামলার জবাবে তারা সংশ্লিষ্ট মার্কিন বিমানঘাঁটিতে আক্রমণ চালিয়েছে।

ইরানে হামলার জবাবে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতার আলোচনা চলার মধ্যেই নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ড্রোন ঘাঁটিতে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাবে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে আক্রমণ করেছে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী। এর আগেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের মধ্যে চুক্তির একটি অনানুষ্ঠানিক খসড়া তৈরির খবর সরাসরি নাকচ করে দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের চারটি আক্রমণকারী ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং বন্দর আব্বাসের কাছে একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনে হামলা চালিয়েছে, যেখান থেকে পঞ্চম একটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল। ওই কর্মকর্তা বলেন, “এই পদক্ষেপ ছিল সংযত, সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার লক্ষ্যে নেওয়া।”

পাল্টা পদক্ষেপে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী তাসনিম সংবাদ সংস্থাকে জানায়, বন্দর আব্বাস বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন হামলার জবাবে তারা সংশ্লিষ্ট মার্কিন বিমানঘাঁটিতে আক্রমণ চালিয়েছে। তবে ঘাঁটির অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। 

কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা একটি শত্রু হামলা মোকাবিলা করছে। একই সময়ে উত্তর ইসরায়েলে বিমান সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করে, এক মাসের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে একটি অনানুষ্ঠানিক খসড়া চুক্তি তৈরি হয়েছে, যেখানে ইরান ও ওমান যৌথভাবে প্রণালি পরিচালনা করবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প সেই প্রতিবেদন সরাসরি উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “কোনো একটি দেশ এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে না। এটি আন্তর্জাতিক জলসীমা। ওমানকেও সবার মতোই আচরণ করতে হবে, নইলে আমাদের তাদের উড়িয়ে দিতে হবে।” হোয়াইট হাউস ইরানের প্রতিবেদনটিকে “সম্পূর্ণ বানোয়াট” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে কোনো আলোচনা চলছে না।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান এব্রাহিম আজিজি বলেছেন, ট্রাম্পের হুমকিতে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, হরমুজ প্রণালিতে কর্তৃত্ব এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি থেকে সরে আসবে না। তিনি বলেন, “ট্রাম্প এই কৌশলগত অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন এবং হুমকি ও সমঝোতার আহ্বানের মধ্যে পালাক্রমে দুলছেন।” অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।

বুধবার পাঁচ শতাংশের বেশি পতনের পর বৃহস্পতিবার সংঘর্ষের খবরে মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম তিন শতাংশের বেশি বেড়েছে। শেয়ারবাজারে পতন এবং ডলারের মান ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো।