ক্ষমতায় থেকেও নিরাপদ নন বিএনপির নেতারা: এক মাসে পাঁচ হত্যা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে সংঘাতের একটি ঐতিহাসিক ধারা আছে।

ক্ষমতায় থেকেও নিরাপদ নন বিএনপির নেতারা: এক মাসে পাঁচ হত্যা

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরও দলটির নেতাকর্মীরা একের পর এক হত্যার শিকার হচ্ছেন। গত এক মাসেই অন্তত পাঁচজন নেতা নিহত হয়েছেন।

সর্বশেষ শনিবার (১৩ জুন) চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরীকে (৪৫)। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আসা পাঁচ থেকে সাতজন অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

তার একদিন আগে ১২ জুন খুলনার লবণচরায় গুলিতে নিহত হন বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম।

এর আগে ৯ জুন বাগেরহাটের ফকিরহাটে কৃষক দল নেতা বাদল মোড়লকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একই রাতে ঢাকার মৌচাক এলাকায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা বিল্লাল হোসেন তালুকদার। আর ২১ মে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণিকে।

পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলো রাজনৈতিক বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে ঘটেছে।

তিনি স্বীকার করেন, এ ধরনের “টার্গেট কিলিং” আগাম শনাক্ত করা কঠিন। 

তবে তার দাবি, জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে এবং দেশজুড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, বিএনপি একটি বড় দল এবং বিভিন্ন মানসিকতার মানুষ দলে আছেন। 

তার কথায়, “অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যায়, তবে আমরা এগুলো কখনও সমর্থন করি না।” সাংগঠনিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে সংঘাতের একটি ঐতিহাসিক ধারা আছে।

তার মতে, কোনো দল ক্ষমতায় এলে পদ-পদবি, প্রভাব এবং অর্থনৈতিক সুবিধাকে ঘিরে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। “রাষ্ট্রকে একটি রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি হিসেবে দেখার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে,” বলেন তিনি।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিচ্ছেন, শুধু অভিযান বা গ্রেফতারে এ পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান আসবে না। রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের ভেতরে শৃঙ্খলা আনতে হবে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন