আসামি ছিনিয়ে নিতে পুলিশের গাড়িবহরে হামলা, ডিসি-এসপির গাড়ি ভাঙচুর : ওসিসহ আহত ৩০

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়লে ডিসি, এসপি ও ইউএনওসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয়দের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু আসামিকে নিয়ে ফেরার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুনরায় উত্তেজিত হয়ে প্রশাসনের গাড়িবহর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে।

আসামি ছিনিয়ে নিতে পুলিশের গাড়িবহরে হামলা, ডিসি-এসপির গাড়ি ভাঙচুর : ওসিসহ আহত ৩০

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক 

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ভুট্টাক্ষেতে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় এক শিশু শিক্ষার্থীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্তকে আটকের পর তাকে ছিনিয়ে নিতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় জনতার ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। 

ভাঙচুর হয়েছে জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) সরকারি গাড়ি।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে নন্দিনী রানী (৭) নামে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত নন্দিনী ওই গ্রামের কৃষক নলনী বর্মণের মেয়ে। সে স্থানীয় ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল থেকে নন্দিনী নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পর আজ সকালে ভুট্টাক্ষেতে মাটিচাপা ও বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।

হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে আদিতমারী থানা পুলিশ শিশুটির পারিবারিক সম্পর্কের চাচা বিধানকে (১৯) প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করে এবং ঘটনাস্থল থেকেই তাকে আটক করে। আসামিকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের পথরোধ করে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা বিধানের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়লে ডিসি, এসপি ও ইউএনওসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয়দের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু আসামিকে নিয়ে ফেরার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পুনরায় উত্তেজিত হয়ে প্রশাসনের গাড়িবহর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে ডিসি, এসপি ও ইউএনওর সরকারি গাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ রাশেদুল হক প্রধান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘ভুট্টাক্ষেতে শিশুটির লাশ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সেখানে যায়। আসামিকে নিয়ে আসার সময় জনগণ বাধা দেয়। পরে বিজিবি ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ নিয়ে আমরা সেখানে যাই। সবাইকে বুঝিয়ে ফেরার সময় অতর্কিতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এতে আমাদের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর হয় এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।’

লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আসাদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘আসামিকে নিয়ে আসার সময় পুলিশের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়েছে। বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে এবং আমাদের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে।’

পুলিশ সুপার আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে আদিতমারী থানার ওসি নাজমুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করা হচ্ছে।