নারী পাচার: দুদকের জালে ৫৭ রিক্রুটিং এজেন্সি

এজেন্সি-মালিকদের অবৈধ সম্পদ আছে কি না, তাও যাচাই করছে সংস্থাটি।

নারী পাচার: দুদকের জালে ৫৭ রিক্রুটিং এজেন্সি

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

জনশক্তি রপ্তানির আড়ালে নারী পাচার—এমন অভিযোগে ৫৭টি রিক্রুটিং প্রতিষ্ঠানকে অনুসন্ধানের আওতায় এনেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। 

জানা গেছে, বিদেশে চড়া বেতনের কাজের কথা বলে নারী ও কিশোরীদের পাঠানো হতো মধ্যপ্রাচ্যে, যেখানে অনেকে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং জোর করে অবৈধ কাজে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

এশিয়া পোস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ সকল তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-তে হানা দেয় দুদক। সেখানে অনিয়মের প্রাথমিক আলামত মেলার পর দুদক ৩ জুলাই একটি মামলা করে, যাতে বিএমইটির চার কর্মকর্তা এবং পাঁচটি এজেন্সির মালিক-কর্মকর্তা আসামি হন। অভিযোগ ছিল—জাল কাগজপত্র বানিয়ে নারী পাচারে সহায়তা করা হয়েছে।

মামলাটির তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে একে একে নতুন নাম উঠে আসে, আর সেভাবেই সংযুক্ত হয় আরও ৫৭টি প্রতিষ্ঠান।

এই ৫৭ এজেন্সির মালিকানা, লাইসেন্স ও কার্যক্রম সংক্রান্ত নথি চেয়ে সম্প্রতি বিএমইটিকে চিঠি দিয়েছে দুদক। 

বিএমইটি সূত্র সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছে, ২৩ জুলাই চিঠিটি পাঠানো হয়। এজেন্সি-মালিকদের অবৈধ সম্পদ আছে কি না, তাও যাচাই করছে সংস্থাটি।

মামলায় আসামি করা হয়েছে বিএমইটির উপপরিচালক সাজ্জাদ হোসেন সরকার, সহকারী পরিচালক হোসেন উল্লাহ আকন্দ, জরিপ কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন পাটোয়ারি ও কম্পিউটার অপারেটর আজাদ হোসেনকে। 

এজেন্সির পক্ষে আসামি তালিকায় আছেন এইচ এ ইন্টারন্যাশনালের আনোয়ার হোসেন, কে এইচ ওভারসিজের সালাউদ্দিন, মক্কা ওভারসিজের জামাল হোসেন, তাসনিম ওভারসিজের আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া ও এস এম ম্যানপাওয়ারের একরামুল হক।

এজাহারে বলা হয়েছে, গত বছরের ২৯ মে বিএমইটিতে চালানো অভিযানেই বেরিয়ে আসে চক্রের কারসাজি। মধ্যপ্রাচ্যে গৃহকর্মী পাঠানোর সময় নারীদের নামে ভুয়া পাসপোর্ট বানিয়ে ব্যবহার করত এজেন্সিগুলো—আসল আবেদনকারীর জায়গায় অন্য কারও পাসপোর্ট নম্বর বসিয়ে দেওয়া হতো, আর বিএমইটির সিস্টেমে যাচাই ছাড়াই মিলে যেত অনুমোদন।

নিয়ম অনুযায়ী গৃহকর্মী হিসেবে বিদেশ যেতে বয়স ২৫ বছর হওয়া বাধ্যতামূলক হলেও, তার কম বয়সী নারীদেরও ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে—যা সরাসরি সরকারি নির্দেশনার লঙ্ঘন। এ প্রক্রিয়া থেকে জড়িত কর্মকর্তারা আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে, টি-টুয়েন্টি ওভারসিজ লিমিটেড (আরএল নম্বর: ১৪১৫), শিমুল এয়ার ওভারসিজ লিমিটেড (আরএল নম্বর: ১৮০৩), মাহি বিজনেস লিমিটেড (আরএল নম্বর: ০৮০২)।

নাম রয়েছে মেসার্স দ্য বাংলাদেশ ট্রেড করপোরেশন (আরএল নম্বর: ১২০৭), মেসার্স জিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং (আরএল নম্বর: ০০২৩), প্রসেস ওভারসিজ (আরএল নম্বর: ১২০৪), গুডলেস সার্ভিস লিমিটেডের (আরএল নম্বর: ২০৬৮)।

সেন্ট্রাল ওভারসিজ (আরএল নম্বর: ০১১২), ইজি ওয়ে ইন্টারন্যাশনাল (আরএল নম্বর: ১৬৪৯), আল-ফাতিহ ইন্টারন্যাশনাল (আরএল নম্বর: ১২১৩), দি ইফতি ওভারসিজের (আরএল নম্বর: ০৮৯৪) নাম রয়েছে তালিকায়।

আমিয়াল ইন্টারন্যাশনাল (আরএল নম্বর: ১৩২৬), লেবার এশিয়া লিমিটেড (আরএল নম্বর: ১৭৩০), জেনারেল ট্রেডিং কোম্পানি (আরএল নম্বর: ০৩২০), আমির এভিয়েশন লিমিটেডও (আরএল নম্বর: ০৮৪০) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নাম রয়েছে আজাজ বিজনেস ইন্টারন্যাশনাল (আরএল নম্বর: ১৯৬৮), সেইফওয়ে এমপ্লয়মেন্ট (আরএল নম্বর: ১৪৮৩), আল-জাবেশ এস্টাবলিশমেন্ট লিমিটেড (আরএল নম্বর: ০৮৮৪), ইফতি ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের (আরএল নম্বর: ১২১২)।

সালমাশ ওভারসিজ (আরএল নম্বর: ০৭৬৫), ভারসেটাইল ওভারসিজ লিমিটেড (আরএল নম্বর: ১৫৮৫), এবিএস ইন্টারন্যাশনাল (আরএল নম্বর: ১৭৭১), প্রতীক ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস (আরএল নম্বর: ০৫০৬), ভেলি ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের (আরএল নম্বর: ১২৬৮) নাম রয়েছে তালিকায়।

আল-জুহুর ইন্টারন্যাশনাল (আরএল নম্বর: ১৩১১), বিএন অ্যাসোসিয়েট (আরএল নম্বর: ০৫৬৭), বিপ্লব ইন্টারন্যাশনাল (আরএল নম্বর: ০৩৩২), ফালকন ইন্টারন্যাশনাল (আরএল নম্বর: ০৬১৭), শান ওভারসিজ (আরএল নম্বর: ০৭৫৯), রিমেল ওভারসিজ (আরএল নম্বর: ০৭৪৫), হিমেল এয়ার সার্ভিস (আরএল নম্বর: ০৬৭৪) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

দুদকের তালিকায় নাম আছে দ্য উইশার ইন্টারন্যাশনাল (আরএল নম্বর: ১১৪৯), টিপিএস ৩৬০ বাংলাদেশ লিমিটেড (আরএল নম্বর: ০৯৯৫), টিএসও ওভারসিজ (আরএল নম্বর: ১৭৫৫), জাস্ট ওয়ে এভিয়েশন লিমিটেড (আরএল নম্বর: ০৭২৬), ফিউচার প্যালেস লিমিটেড (আরএল নম্বর: ১৯০১), গালফ ইন্টারন্যাশনাল (আরএল নম্বর: ১২২১), সাদমান ইন্টারন্যাশনালের (আরএল নম্বর: ০৯৪৩)।

তালিকায় থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সিটি এয়ার ইন্টারন্যাশনাল (আরএল নম্বর: ০৫৭৬), আল মাহমুদ ওভারসিজ (আরএল নম্বর: ১৪১২), ফার্স্ট এয়ার সার্ভিস (আরএল নম্বর: ১৩৮৩), নুসাইবা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল (আরএল নম্বর: ১৬১২), আল মোবারক ইন্টারন্যাশনাল (আরএল নম্বর: ০৫৪২), তাসনিম ওভারসিজ (আরএল নম্বর: ০৫৬৯), মক্কা ওভারসিজ (আরএল নম্বর: ১১৭৫), আল মিশার ওভারসিজ (আরএল নম্বর: ১২৩৫), বাংলাদেশ এক্সপোর্ট করপোরেশন (আরএল নম্বর: ০৮০৩), কেএস ওভারসিজ (আরএল নম্বর: ১৪২২), এসএম ম্যানপাওয়ার লিমিটেড (আরএল নম্বর: ১৩৭২), রিফাত ইন্টারন্যাশনাল (আরএল নম্বর: ০৬৯৩), রাতুল ট্রেডিং ওভারসিজ (আরএল নম্বর: ০৭৭৭), সিটিজেন্স এয়ার ইন্টারন্যাশনাল (আরএল নম্বর: ১০৮৯), আল হারামাইন ওভারসিজ (আরএল নম্বর: ১১১৬), বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (আরএল নম্বর: ০১৪৭), আল-ইমরান ইন্টারন্যাশনাল (আরএল নম্বর: ০৭৮০) এবং এইচএ ইন্টারন্যাশনাল (আরএল নম্বর: ০৪৬৯)।

কমিশনের জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক তানজীর আহমেদ সংবাদ মাধ্যমকে জানান, মামলা রুজুর পর তদন্ত কর্মকর্তা বিস্তারিত অনুসন্ধান চালান এবং তদন্তে নতুন কারও সম্পৃক্ততা মিললে কমিশনের অনুমোদনক্রমে চার্জশিটে তা যুক্ত করার সুযোগ থাকে। এই মামলায়ও নতুন সংশ্লিষ্টতা মিললে সংশ্লিষ্টদের নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

সূত্র: এশিয়া পোস্ট