মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে ব্রিকসের সঙ্গে একযোগে কাজ করবে চীন

ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোতে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি মানুষের বসবাস। পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশও এই জোটের সদস্য দেশগুলোর দখলে।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে ব্রিকসের সঙ্গে একযোগে কাজ করবে চীন

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি অঞ্চলটিতে সংঘাত বন্ধ করে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সদস্য দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।

শি জিনপিং বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রিকসের দেশগুলোর সঙ্গে চীন ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে শি জিনপিং বলেন, এ ধরনের সংঘাত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাধারণ স্বার্থ রক্ষা করে না। তাই শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চীন ব্রিকসের অন্যান্য সদস্য দেশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

ব্রিকসকে গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্বস্থানীয় একটি জোট হিসেবে উল্লেখ করে চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর আত্মনির্ভরশীলতার ক্ষেত্রে এ জোট একটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে তিনি উদ্ভাবননির্ভর উন্নয়নকে আরও উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বর্তমানে ব্রিকস জোটে রয়েছে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থার বিকল্প শক্তি হিসেবে জোটটির যাত্রা শুরু হয়। গত দুই দশকে সদস্য সংখ্যা বাড়লেও সদস্য দেশগুলোর ভিন্ন ভিন্ন ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছানো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে রয়টার্স।

ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোতে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি মানুষের বসবাস। পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশও এই জোটের সদস্য দেশগুলোর দখলে।

এদিকে ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে নয়াদিল্লিতে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিদেশি নেতাদের নিজস্ব নিরাপত্তা দলের পাশাপাশি ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করছে।

সম্মেলনে শি জিনপিং জানান, আগামী বছর ব্রিকসের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেবে চীন। একই সঙ্গে ১৯তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনেরও আয়োজন করবে দেশটি।