বিএনপির কেউ অপরাধে জড়িত থাকলেও ছাড় নয়: প্রতিমন্ত্রী হাবিব

কোনো নেতা ব্যক্তিগত স্বার্থে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী বা চাঁদাবাজদের রক্ষা করলে তাদের চিহ্নিত করে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএনপির কেউ অপরাধে জড়িত থাকলেও ছাড় নয়: প্রতিমন্ত্রী হাবিব

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেছেন, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে। বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী এসব অপরাধে জড়িত থাকলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর রাজারবাগ-সবুজবাগ এলাকার শ্রী শ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির মাঠে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হাবিবুর রশিদ বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে যাকে ধরতে হয়, তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় গ্রহণ করবেন না। সে যেই হোক, তাকে ধরবেন, চালান দিয়ে দেবেন। আমরা তার শাস্তি চাই।’

তিনি বলেন, শুধু প্রশাসনের ওপর দায় চাপালে মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য সমাজের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকেও মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

দলের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ নিজেদের স্বার্থে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো নেতা ব্যক্তিগত স্বার্থে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী বা চাঁদাবাজদের রক্ষা করলে তাদের চিহ্নিত করে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাবিবুর রশিদ বলেন, মানুষের বা কোনো এলাকার ক্ষতি হয়—এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও অপরাধীদের সঙ্গে আপস করা হবে না। সরকার সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

এ সময় এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গেও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে বর্তমান সরকারকে নির্বাচিত করেছে। ফলে সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা ও দাবি বেড়েছে। এসব দাবি পূরণে বিভিন্ন উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম দায়িত্ব নেওয়ার পর মানিকনগরের একটি সড়কের টেন্ডার হয়েছে এবং কাজ শুরু হয়েছে। ধলপুর-মানিকনগর থেকে ধলপুর মুগদা হাসপাতাল ও হাসপাতালের পাশের সড়ক এবং বাসাবো-মাদারটেক সড়কের উন্নয়নকাজও চলছে।

ডিএসসিসির বাজেট সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এলাকার উন্নয়নে প্রশাসক আবদুস সালামের উদ্যোগের প্রশংসা করেন হাবিবুর রশিদ। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ খুব বেশি কিছু চায় না। তারা চলাচলের উপযোগী রাস্তা, পর্যাপ্ত সড়কবাতি ও নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ চায়।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির বিষয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদেরও সতর্ক করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি করলে বা অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহি রয়েছে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

কর্মসূচিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম, বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশান পরিচালনা কমিটির সভাপতি বাবু পবন দাস, সাধারণ সম্পাদক বাবু গুরু দাসসহ বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।