বিশেষ প্রতিনিধি
কাপাসিয়ায় একটি সমবায় সমিতির সভাপতি সদস্যদের জমানো প্রায় তিন কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সমিতির অফিস বন্ধ থাকায় টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় প্রতিদিন সেখানে ভিড় করছেন শত শত নারী-পুরুষ।
অভিযুক্ত আবুল হাসেম (৪৬) শুভেচ্ছা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের সভাপতি। তিনি বাড়ি কাপাসিয়ার দড়িমেরুন গ্রামের মৃত আবদুল হাইয়ের ছেলে।
আবুল হাসেমের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।
সমিতির সদস্যরা জানিয়েছেন, ১৭ সেপ্টেম্বর সমিতির অফিসে তালা দিয়ে চলে যান আবুল হাসেম। এরপর থেকে সেটি বন্ধ। সোমবার বিকেলে কাপাসিয়ার রাওনাট বাজারে গিয়ে দেখা যায়, তিনতলা ভবনের নিচতলার দোকান এবং ওপরতলার সমিতির কার্যালয়—সবকিছুতেই তালা ঝুলছে। সেখানে সমিতির কার্যক্রমের কোনো চিহ্ন ছিল না।
স্থানীয় রাওনাট বাজার সমিতির সভাপতি সফিকুল আলম বলেন, “বহু নারী-পুরুষ সারা দিন সমিতির সামনে অপেক্ষা করছেন জীবনের শেষ সম্বলটুকু উদ্ধারের জন্য।”
সমবায় অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে ১০৯৮ নম্বর নিবন্ধনের মাধ্যমে সমিতিটির কার্যক্রম শুরু হয়। দুর্গাপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের সাতটি ইউনিয়নের মানুষ এর সদস্য।
সদস্যদের ভাষ্য, গত বছর সদস্যসংখ্যা ছিল ৪৯৬, এখন তা প্রায় এক হাজার। ১৫ শতাংশ মুনাফার কথা বলে টাকা নেওয়া হয়েছিল। এতে আশায় অনেকে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে সমিতিতে জমা দেন। সদস্যদের দাবি, সমিতির মূলধন এখন প্রায় ১০ কোটি টাকা। তবে এ তথ্যের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
বরুন গ্রামের সালমা বেগম ও সুবর্ণা আক্তার দুজন মিলে সমিতিতে এক লাখ আট হাজার টাকা রেখেছিলেন। চাপাত মাঝিবাড়ি গ্রামের নিখিল দাসের জমা ছিল দুই লাখ ১০ হাজার টাকা। ফুলবাড়িয়া গ্রামের এক নারী ছয় লাখ টাকা রেখেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, টাকা ফেরত না পেয়ে তিনি প্রায় দিশাহারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও দুজন সদস্য অভিযোগ করেছেন, জেলা সমবায় অফিসের অধীন সমিতিগুলোতে পরিদর্শন ও নির্বাচনের কথা থাকলেও তা হয় না। তাঁরা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন। এ অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কাপাসিয়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মাহফুজুল আমিন বলেন, সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী আবুল হাসেম তিন কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন। তার মুঠোফোন বন্ধ। অফিস খোলার চেষ্টা চলছে।
তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত দুজন সদস্য থানায় ও গাজীপুরের আদালতে দুটি মামলা করেছেন। সমবায় অফিসও তদন্ত করছে। সমিতিতে ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করতেন বলেও জানান তিনি।
গাজীপুরের জেলা সমবায় কর্মকর্তা আরিফা সুলতানা শিপা বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।” সমিতির সদস্য ও মূলধনের পরিমাণ কত, নিরীক্ষা হয় কি না, তাও তার জানা নেই।
ঢাকা বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক মো. আবদুল ওয়াহেদ বলেন, এমন ঘটনার পরও জেলা কর্মকর্তা কিছু না জানলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।