গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক
দেশে কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি মানুষ বন্দী থাকার মধ্যেই চার মাসের কম সময়ে প্রায় দুই লাখ মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এতে আগে থেকেই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দী থাকা কারাগারগুলোতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ মে থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত ১১৭ দিনে সারা দেশে ১ লাখ ৯৫ হাজার ১৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৬৬৭ জনের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন।
এর মধ্যে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৫৩ হাজার ৫১৮ জন। আর অন্যান্য মামলা ও অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও ১ লাখ ৪১ হাজার ৬২৮ জন। তবে এই সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ জামিনে বা মুক্তি পেয়ে কারাগার ছেড়েছেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, যাদের গ্রেপ্তার করা হয়, তাদের বেশিরভাগকেই ধরা হয় ছোটখাট অভিযোগে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়। তাদের এক থেকে চার দিনের কারাদণ্ড হয়।
কারা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন গত ১৮ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সারা দেশের কারাগারগুলোতে বন্দীর সংখ্যা ৯৮ হাজারের বেশি। অন্যদিকে ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৩৬ জন।
ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি বন্দী থাকার কারণে সাধারণ বন্দীদের সঙ্গে গুরুতর অভিযোগে আটকরাও একই সঙ্গে থাকছে। এতে অপরাধ প্রবণতাও বাড়ছে। কারা কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে উগ্রবাদের অভিযোগে আটকদের নিয়ে চিন্তিত, তারা অন্যদের মগজধোলাই করছে বলেও তথ্য আছে।
সম্প্রতি ঢাকায় বোমাসহ গ্রেপ্তার জুয়েল ওস্তাদের সঙ্গে পলাতক ‘বোমারু মামুনের’ কারাগারেই সম্পর্ক হয়েছিল বলে তথ্য আছে।
বিদায়ী কারা মহাপরিদর্শক বলেন, ‘আবাসন আমাদের একটি বড় সমস্যা। যার কারণে আমরা সাধাারণ বন্দী ও জঙ্গিদের চাইলেও অনেক সময় আলাদা রাখতে পারছি না।’
চলমান অভিযানে অস্ত্র উদ্ধারের পরিমাণ খুব একটা বেশি নয়। পুলিশের হিসাবে এই সময়ে ৪৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪ হাজার ৭২২টি গুলি ও কার্তুজ, ১৬৫টি ম্যাগাজিন, ৬৫টি ককটেল, সোয়া দুই কেজি গানপাউডার, ৮৯৩টি দেশীয় অস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের কথাও জানানো হয়েছে।
একই সময়ে উদ্ধার করা হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ ৫৪ হাজার ৫৫৯ ইয়াবা, ১০ হাজার ৭৩২ পুরিয়া হেরোইন, ৩০ হাজার ৪২৭ বোতল ফেনসিডিল, ১৩ হাজার ৮৬৫ বোতল বিদেশি মদ, ৫৬০ বোতল দেশি মদ এবং ১২ হাজার ৫৩ পুরিয়া গাঁজা।
মাদক উদ্ধারের ঘটনায় ২৩ হাজার ২২১টি মামলা হয়েছে এবং এসব মামলায় ৩৪ হাজার ৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব বাংলাদেশ