গত ১৩ বছরে সড়কে প্রাণ গেছে সোয়া লাখ মানুষের

৭২ হাজার ৭৩৬টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন এক লাখ ২৫ হাজার ৪০৫ জন, আহত এক লাখ ৭৬ হাজার ২৪৯ জন।

গত ১৩ বছরে সড়কে প্রাণ গেছে সোয়া লাখ মানুষের

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

গত ১৩ বছরে বাংলাদেশের সড়কে এক লাখ ২৫ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ গেছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। এ পরিস্থিতির জন্য তারা বিগত সরকারগুলোর নীতিগত ভুল, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছে।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে বুধবার (২১ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এসব কথা বলেছেন।

সংগঠনটি ২০১৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর বিশ্লেষণ করেছে। তাদের হিসাবে, এ সময়ে ৭২ হাজার ৭৩৬টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন এক লাখ ২৫ হাজার ৪০৫ জন, আহত এক লাখ ৭৬ হাজার ২৪৯ জন।

সংগঠনটির দাবি, হাসপাতালের তথ্য দেখলে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও কয়েক গুণ হতে পারে। তাদের আরও দাবি, একই সময়ে বিশ্বের চলমান বিভিন্ন যুদ্ধে যত মানুষ মারা গেছেন, বাংলাদেশের সড়কে মৃত্যু তার চেয়ে বেশি।

মোজাম্মেল হক চৌধুরীর অভিযোগ, সমন্বিত পরিকল্পনা না করে রেল ও নৌপথকে গুরুত্বহীন করে একের পর এক সড়ক বানানো হয়েছে। ফলে মানুষ প্রায় পুরোপুরি সড়কের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার আগে নদী ও রেলপথেই চলাচল করতেন ৮০ শতাংশ মানুষ, বাকি ২০ শতাংশ ছিলেন সড়কে। তখন দুর্ঘটনার হারও ছিল ওই ২০ শতাংশের মধ্যে সীমিত। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর উন্নয়নের নামে এই চিত্র বদলে গেছে। সরকারি সংস্থাগুলোর দুর্নীতি এবং পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির কারণে বহুমাধ্যমভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। তাঁর মতে, এর দায় অতীতের সব সরকারকেই নিতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের অনিয়মের কথা বলা হয়েছে। সংগঠনের ভাষ্য, পরিবহন মালিক-শ্রমিক ও কিছু পুলিশ কর্মকর্তার চাঁদাবাজি এবং নৈরাজ্যে সড়কে বিশৃঙ্খলা বেড়েছে।

এ ছাড়া তারা যেসব কারণ চিহ্নিত করেছে:

  • – মেয়াদ ও ফিটনেসহীন যানবাহন, লাইসেন্সবিহীন, অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অযোগ্য চালক
  • – মাদক সেবন করে গাড়ি চালানো, বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, উল্টোপথে চলাচল
  • – সড়কের নির্মাণত্রুটি, ডিভাইডারের অভাব, গাছপালার কারণে অন্ধবাঁক
  • – পণ্যবাহী যানে যাত্রী বহন, অতিরিক্ত যাত্রী, বিরতি ছাড়া দীর্ঘক্ষণ গাড়ি চালানো
  • – ট্রাফিক আইন অমান্য

সংগঠনটি বলছে, উন্নত গণপরিবহন ও দ্রুত যাতায়াতব্যবস্থা না থাকায় মানুষ প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন। এর সুযোগে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, রাইডশেয়ারিং মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, নসিমন-করিমন, মাহিন্দ্রা, পিয়াজিও এবং লেগুনা হিসেবে চলা পিকআপভ্যানে যাত্রী পরিবহন বেড়েছে। এতে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি দুই-ই বাড়ছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, দুর্ঘটনা কমাতে যা করা দরকার:

  • – পরিবহন বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএ পরিচালনা
  • – আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বাস নেটওয়ার্ক ও সড়ক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা
  • – চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ
  • – গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে ফুটপাত, সার্ভিস লেন ও নিরাপদ পারাপার
  • – রোড সাইন ও রোড মার্কিং স্থাপন, মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত
  • – নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তা নিরীক্ষা
  • – ফিটনেস সনদ প্রদানের আধুনিকায়ন ও মেয়াদোত্তীর্ণ গণপরিবহন বাতিল
  • – বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ট্রাফিক প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠা
  • – সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ