কালীগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাত, চাচাতো ভাইসহ গ্রেপ্তার ৩

কালীগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাত, চাচাতো ভাইসহ গ্রেপ্তার ৩

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক 

কালীগঞ্জে ১২ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ ও ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজন শিশুটির চাচাতো ভাই।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার চতুর্থ আসামি পলাতক।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মোক্তারপুর ইউনিয়নের মোক্তারপুর এলাকার কমল শেখের ছেলে মো. আহাদ (২১), মৃত ইসলামের ছেলে মো. শামীম (৪২) ও মৃত আনছার আলীর ছেলে মো. নজরুল ইসলাম (৪৫)। পলাতক আসামি আনসুর আলীর ছেলে শফিকুল (৩০)।

ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। মামলার বাদী শিশুটির মা।

এজাহারে বলা হয়েছে, বাদীর স্বামী প্রায় ছয় বছর আগে মারা গেছেন। তার তিন মেয়ে ও এক ছেলে। বড় মেয়ে বিবাহিত, স্বামীর বাড়িতে থাকেন। বাদী ও আরেক মেয়ে একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। ফলে ভুক্তভোগী শিশুটি বেশির ভাগ সময় বাড়িতে একাই থাকত। প্রায় পাঁচ মাস আগে, চলতি বছরের মে মাসের কোনো একদিন সন্ধ্যা সাতটার দিকে অভিযুক্ত আহাদ শিশুটিকে ফুসলিয়ে ও ভয় দেখিয়ে মোক্তারপুরের তাদের পুরোনো বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তিনি তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ।

এরপর শিশুটির মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে শামীম, নজরুল ইসলাম ও শফিকুল ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তাকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে জোর করে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

সম্প্রতি বিষয়টি বুঝতে পেরে আহাদ ওষুধ এনে দিলে শিশুটি তা খায় বলে এজাহারে উল্লেখ আছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর চারটার দিকে শিশুটি পেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করে এবং তার গর্ভপাত হয়। পরে মায়ের জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার বিবরণ দেয়।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, গর্ভপাতের পর শিশুটির মা মৃত ভ্রূণ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দেখান এবং পরে তা ঘরে একটি পলিথিনে রেখে দেন। এরপর শিশুটিকে দ্রুত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক (নিবন্ধন নম্বর ৭৪৩৯/২০, তারিখ ২১ অক্টোবর) তার চিকিৎসা দেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দায়েরের পর মামলা নথিভুক্ত করা হয়। পরে রাতভর অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তার তিনজন আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।