ফ্যান কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: আত্মগোপনে মালিকসহ কর্মকর্তারা

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : গাজীপুর সদর উপজেলার কেশরিতা এলাকায় লাক্সারি ফ্যান কারখানায় কয়েলের বার্নিশ অয়েল নিয়ে কাজ করার সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ শ্রমিক পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়ার পর থেকেই মালিক পরিচালক ও কর্মকর্তারা আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশের একাধিক টিম। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

১৮ ডিসেম্বর সমকাল- পত্রিকায় প্রকাশিত ‘আত্মগোপনে মালিকসহ কর্মকর্তারা’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ সকল তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রীপুর উপজেলার মারতা গ্রামের রাশেদের বাবা কামাল হোসেন বাদী হয়ে সোমবার রাতেই জয়দেবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় লাক্সারি ফ্যান কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদ হাসান ঢালী ও সংশ্নিষ্ট খোরশেদ আলম, নাছির আহমেদ, ডা. জহিরুল ইসলাম ও শামীম ঢালীকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া কারখানার জেনারেল ম্যানেজার ও প্রোডাকশন ম্যানেজারকে আসামি করা হয়। তাদের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি বলে অজ্ঞাত হিসেবে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই তারা পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার বাদী কামাল হোসেন জানান, সরকারিভাবে সংশ্নিষ্ট বিভাগের অনুমোদন বা লাইসেন্স না নিয়ে বছরের পর বছর ধরে কারখানাটি চলছিল। দোতলা ভবনের ছাদের ওপর বিশাল টিনশেড ঘরে একটি মাত্র দরজা থাকার কারণে আগুন লাগার পরও তার ছেলেসহ অন্যরা বের হতে পারেনি। বিকল্প কোনো দরজা থাকলে হয়তো এত বড় সর্বনাশ হতো না। তাজা দশটি প্রাণ এভাবে পুড়ে অঙ্গার হতো না। কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনার কারণেই দশটি পরিবার আজ তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে। তিনি বলেন, বাবার কাঁধে পুত্রের লাশ ! এর চেয়ে আর ভারী কিছু নেই। আর সেটা যদি হয় কারও গাফিলতির কারণে, তাহলে অবশ্যই মেনে নেওয়া যায় না। নিজের দায়িত্ববোধ থেকেই মামলা করেছি আমি।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, কোনো রকম অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, পানির মজুদ না রেখে, জরুরি নির্গমনের ব্যবস্থা না করে কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল। কারখানা মালিকপক্ষের উদাসীনতা ও খামখেয়ালিপনাকেই এ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বলে জানান স্থানীয়রা। মামলায় বলা হয়, টিনশেড ওই ঘরে বিকল্প কোনো দরজা বা জানালা থাকলে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটত না।

জয়দেবপুর থানার ওসি মো. জাবেদুল ইসলাম বলেন, ‘মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ কারখানার জিএম ও পিএমকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পুলিশ কারখানার মালিকসহ তার পার্টনার ও সংশ্নিষ্টদের খুঁজছে। খুব শিগগিরই তারা গ্রেপ্তার হবেন বলে আশা করছি।’

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, ‘আসামিরা যেখানেই আত্মগোপনে থাকুক, তাদের খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’

গত রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে গাজীপুর সদরের বাড়িয়া ইউনিয়নের কেশোরতা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত লাক্সারি নামে একটি ফ্যান কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডেরর ঘটনায় ১০ শ্রমিক পুড়ে অঙ্গার হয়ে যান।

 

আরো জানতে…

গাজীপুরে চার বছরে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭৪: প্রশাসনের দায়িত্ব ‘প্রশ্নবিদ্ধ’

ফ্যান কারখানার অগ্নিকাণ্ডে ‘কারখানা কর্তৃপক্ষ এবং ভবন মালিক উভয়ই দায়ী’: তদন্ত কমিটি

ফ্যান কারখায় অগ্নিকাণ্ড: পাঁচ মালিকসহ জিএম ও পিএমকে আসামি করে মামলা

লাক্সারি ফ্যান কারখানার অনুমোদনই ছিল না

‘লাক্সারি ফ্যান’ ফ্যাক্টরির অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ শ্রমিকের লাশ হস্তান্তর

ফ্যান তৈরির কারখানায় নিহত শ্রমিকদের ৫০ হাজার করে টাকা দেওয়ার ঘোষণা শ্রম প্রতিমন্ত্রীর

লাক্সারি ফ্যান তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: ১০ শ্রমিক নিহত(ভিডিও)