গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : পিবিআই-এর তদন্ত প্রতিবেদন পুরোপুরি মিথ্যা বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন সালমান শাহ’র মা নীলা চৌধুরী বলেন, সামিরা ও পিবিআই মিলে যোগসাজশে তদন্তের মাধ্যমে আজ নাটক করেছেন। পিবিআই এর ওই কর্মকর্তা অচিরেই টের পাবে নিলা চৌধুরী সত্যি, নাকি তিনি যা বলছে তা সত্যি।
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে নিজ বাসভবনে সময় সংবাদকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি আবারো বলেন, আজিজ মোহাম্মদ ভাই ও স্ত্রী সামিরার ষড়যন্ত্রেই খুন হয় তার ছেলেকে।
সালমান শাহ’র মা নীলা চৌধুরী বলেন, পিবিআই যখন মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব নিল। তখন কেউ বলছেন একটু চা খাবার পয়সা দিয়েন, আবার কেউ বলছেন একটু টাকা খরচ করেন, তাহলে হয়তো মামলাটি ভালোভাবে তদন্ত হবে।
তিনি বলেন, আমার ছেলে মারা গেছে, তাই আমি রাষ্ট্রের কাছে বিচার চাচ্ছি। রাষ্ট্র দিয়েছে কোর্টের মাধ্যমে পিবিআইকে। আর এই পিবিআই’র কাছে আমি বিচার চাইবো। সেখানে পয়সা খরচ করবো কেন। আর আমি পয়সা খরচ করার মতো ক্ষমতাধর মানুষ না। আমার ছেলেকে খুন করা হয়েছে, তাই আমি এখনও বিচার চাচ্ছি।
এর আগে, দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই দাবি করেছে, সালমান শাহকে খুন করা হয়নি, নায়িকা শাবনূরের সঙ্গে সর্ম্পকের কারণে পারিবারিক কলহে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
সালমান শাহের আত্মহত্যার ৫টি কারণ তুলে ধরেছেন সংস্থাটি। সেগুলো হলো, চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে তার অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা, স্ত্রী সামিরার সঙ্গে দাম্পত্য কলহ, বেশি আবেগপ্রবণ হওয়ার কারণে একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা, মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসা, যা জটিল সম্পর্কের বেড়াজাল তৈরি করে অভিমানে রূপ নেয় এবং সন্তান না হওয়ায় দাম্পত্য জীবনে অপূর্ণতা।
এদিন রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে সালমান শাহ মৃত্যুর ঘটনাপ্রবাহ আঁকা ছবির মাধ্যমেও বিস্তারিত তুলে ধরেন পিবিআই।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটন রোডে নিজের বাসা থেকে চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওই সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান তিনি।
প্রায় ১৮ বছর আগের এই মৃত্যুর ঘটনা হত্যা না আত্মহত্যা তা নির্ধারণে গত বছরের জানুয়ারি মাসে মামলাটি আবারও আদালতে ওঠে। তখন মামলাটি তদন্তে পিবিআইকে দায়িত্ব দেয় আদালত।
সূত্র: সময় টিভি