স্বামীকে প্রেমিক উল্লেখ করে স্বামীর বিরুদ্ধেই ধর্ষণের মামলা করেছে যুব মহিলালীগ নেত্রী?

বিশেষ প্রতিনিধি : অবশেষে জানা গেল টঙ্গীতে যুব মহিলালীগ নেত্রীর প্রেমিক উল্লেখ করে দায়ের করা ধর্ষণের মামলার আসামী আলী আসগর ওই নেত্রীর প্রেমিক নয় সে আসলে নেত্রীর দ্বিতীয় স্বামী!

টঙ্গীর ব্যাপক আলোচিত সমালোচিত যুব মহিলালীগ নেত্রী একই সাথে করতেন দুই স্বামীরই সংসার। গত বুধবার রাতে দ্বিতীয় স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দিলেও এখনো কারোর সাথে তাঁর ছাড়াছাড়ি হয়নি।

তবে মামলার আরজিতে তিনি দ্বিতীয় স্বামীকে তার প্রেমিক বলে দাবী করেছেন। একটানা দীর্ঘ দশ বছর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাকে বিবাহ করার আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ করা হতো বলে তিনি মামলার আরজিতে দাবী করেন।

কিন্তু স্থানীয় এক বেরসিক সাংবাদিক শুক্রবার আসল ঘটনা ফাঁস করে দিলেন। ওই সাংবাদিক নিজের ফেসবুক পেজে ওই নেত্রীর দ্বিতীয় স্বামীর সাথে বিবাহের হলফনামা প্রকাশ করলে এলাকায় তোলপার পড়ে যায়। এতে মুখরোচক আলোচনা সমালোচনায় সরগরম হয়ে উঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো।

গত বুধবার পরকীয়া প্রেমিকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিনব অভিযোগে থানায় মামলা দিয়ে আলোচনায় আসেন ওই নেত্রী।

টঙ্গী পূর্ব থানায় দায়েরকৃত আলোচিত ধর্ষণ মামলার (নং-১১) প্রধান আসামী স্থানীয় ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি পদের প্রার্থী আলী আসগর।

মামলার বাদী আলোচিত নেত্রী স্থানীয় একজন যুবলীগ নেতার স্ত্রীর সাথে ওয়ার্ড যুব মহিলা লীগের সভাপতি পদে লড়ছেন।

আলোচিত নেত্রীর কথিত ‘ধর্ষণ’ মামলার সংবাদ ‘গাজীপুর কণ্ঠ‘সহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এর পর ওই নেত্রীর অপরাধ জগতের নানা তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠে আসে।

অনেকে স্থানীয় সাংবাদিকদের ম্যাসেঞ্জারে ওই নেত্রীর গোপন অডিও, ভিডিও এবং স্থিরচিত্র পাঠাতে থাকেন। একটি চিত্রে দেখা গেছে, নেত্রী একটি রাজকীয় খাটে বসে ফেনসিডিল খাচ্ছেন। আরেকটি ছবিতে নেত্রীকে একজন কেন্দ্রীয় যুব মহিলালীগ নেত্রীর সাথে সেলফি তুলতে দেখা গেছে।

প্রাপ্ত হলফনামায় দেখা গেছে, ওই নেত্রী ও তার পরকীয়া প্রেমিক স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আলী আসগর বিগত ২০১৬ সালের ২৪ জুন নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে তাদের বিবাহের হলফনামা সম্পাদন করেন।

স্থানীয়রা জানান, যুব মহিলালীগ নেত্রীর প্রথম স্বামী জসিম উদ্দিন সুমনও এসব মেনে নিয়েই তার সাথে দ্বৈতভাবে সংসার করতো। তাদের সংসারে (যুব মহিলালীগ নেত্রী-সুমন দম্পত্তি) প্রায় চৌদ্দ বছর বয়সের একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে। সুমন ও আসগর পরস্পর ‘পুরুষ সতিন’ এবং সমাজ বিরোধী এ জঘন্য কাজের জন্য যুব মহিলালীগ ওই নেত্রী ও তার দুই পুরুষ সতিনের সমানভাবে বিচার হওয়া উচিত বলেও অনেকে মন্তব্য করেন।

নেত্রী ও তার প্রথম স্বামী সুমনের বিরুদ্ধে আরো অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভাঙ্গারি দোকানে একজন ভবঘুরে টোকাইকে পিটিয়ে হত্যার পর দোকানের ভেতর লাশ ঝুলিয়ে রাখার অপরাধে বিগত ২০১৬ সালে তাদের বিরুদ্ধে সাবেক টঙ্গী থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়।

সম্প্রতি যুব মহিলালীগ নেত্রী দ্বিতীয় স্বামী আসগরের নেতৃত্বে একজন যুবককে মোবাইল ফোনে তাদের আস্তানায় ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। যুবকটির কান্নার শব্দ যাতে বাহিরে না যায় সেজন্য টর্চার সেলে উচ্চস্বরে সাউন্ড বক্সে গান বাজানো হয়। এ ঘটনায় যুবকটির মুক্তিযোদ্ধা দাদা টঙ্গী পূর্ব থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি।

স্থানীয় একজন সাংবাদিক ঘটনা জেনে ফেলায় আলোচিত নেত্রী সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য ওই সাংবাদিককে হুমকি দিয়েছিল বলেও জানা গেছে।

এদিকে এসব বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য নেত্রী ও তার দুই স্বামীর সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি। বার বার ফোন দিলেও যুব মহিলালীগ নেত্রী ও তার প্রথম স্বামী জসিম উদ্দিন সুমন ফোন রিসিভ করেননি।

দ্বিতীয় স্বামী আসগরের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য : গত বুধবার রাতে টঙ্গী পূর্ব থানায় ধর্ষণের অভিযোগে ৫ জনের নাম উল্লেখ্য করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার প্রধান আসামী স্থানীয় ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদপ্রার্থী আলী আসগর (৩৪) পলাতক রয়েছেন। বুধবার রাতে মামলা দায়েরের পর আলী আসগরের দুই বন্ধু মামলার এজাহার নামীয় আসামী হোসেন সর্দার (৩২) ও মিঠু তালুকদারকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এছাড়াও গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওই নেত্রীর ধর্ষণের আলামত নিশ্চিত হতে শারীরিক পরীক্ষার করা হয়েছে হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আলামিন।

 

এ সংক্রান্ত আরো জানতে………

টঙ্গীতে যুব মহিলালীগের এক নেত্রী ধর্ষণের শিকার: গ্রেপ্তার ২

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button