গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো ঢাকা শহরে। এখন বিশেষায়িত যে হাসপাতালগুলো ছিল করোনা চিকিৎসার জন্যে, সেই হাসপাতালগুলোতে ঠাই নেই এবং মানুষও সেই হাসপাতালগুলোতে যাওয়ার জন্যে আস্থা পাচ্ছে না। বরং মানুষ নামীদামী বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বিভিন্ন কায়দায় ঢুঁকে পড়ছে এবং সেই হাসপাতালগুলো প্রকাশ্যে-গোপনে করোনার চিকিৎসা করছে। এর ফলে করোনার চিকিৎসা এবং করোনা নিয়ন্ত্রণের কোন পথই আর খোলা নেই।
একাধিক বেসরকারি হাসপাতালকে সরকার ‘ইমপ্যাশেন্ট’ অর্থাৎ ভর্তি রোগীর করোনা পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছে এবং এই কৌশলটি খুব ভালোমতো কাজে লাগাচ্ছে দেশের অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতালগুলো। তাঁরা কেউ করোনা পরীক্ষা করতে গেলে তাঁদেরকে ভর্তি করাচ্ছে এবং ভর্তি করিয়ে তাঁর রক্ত পরীক্ষা করছে। অর্থাৎ একটি করোনা পরীক্ষার জন্য তাঁকে দুইদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হচ্ছে এবং ভর্তি থাকার জন্যে যদি তাঁকে দৈনিক নূন্যতম ৩ হাজার টাকাও খরচ করতে হয়, তাহলে দুইদিনে তাঁর খরচ হবে ৬ হাজার টাকা, আর করোনা পরীক্ষার জন্য নেয়া হচ্ছে ৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ সাকুল্যে ১০ হাজার টাকা খরচ করে একজন ব্যক্তির করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। আর যদি তাঁর পজিটিভ হয়, তাহলে ঐ হাসপাতালেই তাঁকে গোপনে আইসোলেশনে বা অন্য চিকিৎসা দিচ্ছে।
যদিও একাধিক হাসপাতাল এই ব্যাপারটি স্বীকার করতে অস্বীকার করছে, কিন্তু এরকম অনেকগুলো হাসপাতালের তথ্য আমাদের কাছে আছে, যে হাসপাতালগুলোতে গোপনে করোনা চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে এবং সেখান থেকে মারা যাচ্ছেও কয়েকজন। হাসপাতালাগুলো লুকোচুরি খেলছে সরকারের নানা রকম বিধিনিষেধের কারণে। এখন পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোথাও করোনা চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। আর এই সিদ্ধান্তের কারণেই হাসপাতালাগুলোকে প্রতারণা এবং ছলচাতুরীর আশ্রয় নিতে হচ্ছে। কিন্তু এর ফল হচ্ছে ভয়ঙ্কর।
বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে নানা কারণেই মানুষ যায়। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ডায়ালাইসিস করে, যারা হৃদরোগী, যারা কেমোথেরাপি দেন বা রেডিওথেরাপি তাঁদের নিয়মিত হাসপাতালাগুলোতে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। আর এই ধরণের রোগীদের জন্য মৃত্যুকূপ হয়ে উঠেছে হাসপাতালাগুলো। কারণ করোনা রোগীরা যাবে, তখন তাঁর সাথে অন্য লোকজনও যাবে হাসপাতালগুলোতে। তখন এই হাসপাতালাগুলোতে করোনা বিপুলভাবে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিবে। যেটা হয়েছিল স্পেনে। এর মাধ্যমে হাসপাতালে যারা অসুস্থ রোগী আছে, বিশেষ করে ক্যান্সার, কিডনি বা জটিল রোগে আক্রান্ত যেসকল রোগী আছে তাঁদেরকে বাঁচানো কঠিন হয়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, এখনই যদি সুষ্ঠ নীতিমালা না গ্রহণ করা হয় এবং এইভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে বেসরকারি হাসপাতালাগুলো রক্ত পরীক্ষা করে বা নমুনা পরীক্ষা করে তাহলে খুব শীঘ্রই বেসরকারি হাসপাতালাগুলো মৃত্যুপুরীতে পরিণত হতে বাধ্য।