গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিকল্প নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী বলেছেন, ‘এখন যেভাবে ছোট ছোট লকডাউন দেওয়া হচ্ছে, এই লকডাউনে কোনো কাজ হবে না। বরং ঢাকাকে ছয়টি ভাগে ভাগ করা, উত্তরকে তিনটি এবং দক্ষিণকে তিনটি- এভাবে ভাগ করে যে এলাকাগুলো সবচেয়ে আক্রান্ত, সেই এলাকাগুলোতে লকডাউন অথবা পুরো ঢাকা শহরে আরও কিছুদিনের জন্য লকডাউন দিয়ে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। না হলে এই মহামারি ঠেকানো অসম্ভব হয়ে পড়বে এবং বাংলাদেশে মৃত্যুর মিছিল হবে।’
একান্ত এক আলাপচারিতায় অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘যারা লকডাউনের বিরোধিতা করছে, তাদের প্রত্যেকেরই বিদেশে বাড়ি আছে। তারা সুযোগ পেলেই নিজেকে বাঁচানোর জন্য প্লেন নিয়ে বিদেশে চলে যাবে, নিজেদের রক্ষা করবে। কিন্তু আমরা? আমাদের যাদের দেশে থাকতে হবে, তারা এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে পারবো না। আমরা একটি ভয়াবহ সংকটের মধ্যে ইতিমধ্যে পড়ে গেছি। এখান থেকে বাঁচার একটাই উপায়। তা হলো- কিছুদিনের জন্য হলেও সবকিছু বন্ধ রাখা। অন্তত বৃহৎ পরিসরে আক্রান্ত এলাকাগুলোকে বন্ধ করা।’
সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী বলেন, ‘এই অনুরোধটা আমি আমলাদের কাছে করতে চাই। কারণ রাজনীতিবিদরা তো এখন আর দেশ চালাচ্ছেন না। এখন দেশ চালাচ্ছেন, সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন আমলারা। তারা কী বুঝে, কী বিবেচনা থেকে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা আমি জানি না। তবে এখন তো অনেক আমলারাও আক্রান্ত হচ্ছেন। আমলাদের স্ত্রীরাও মারা যাচ্ছেন। এখন আমার মনে হয় যে, আমলারা পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝবেন এবং আমাদের জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে, মানুষ বাঁচানোর জন্য মৃত্যুর মিছিল ঠেকানোর জন্য হলেও কিছুদিনের জন্য লকডাউন দেবেন।’
তিনি বলেন, ‘পূর্ব রাজাবাজারে যেভাবে লকডাউন দেওয়া হয়েছে, এই লকডাউনের ফলে কোনোরকম লাভ হয়েছে বলে আমি মনে করি না। বরং এই ধরনের লকডাউন সমাজে আরও অস্থিরতা, জটিলতা তৈরি করছে। মানুষেরও কোনো উপকার হচ্ছে না। এর ফলে করোনা মহামারীর সংক্রমণ থেকেও আমরা বাঁচতে পারছি না। এ কারণেই আমি মনে করি, এখন কিছুদিনের জন্য হলেও লকডাউন দেওয়া উচিৎ।’
অধ্যাপক মোদাচ্ছের আলী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা হয়তো সামনে মৃত্যুর মিছিল দেখবো।’