গাজীপুরে সিসা তৈরির অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেও প্রতিকার নেই!

বিশেষ প্রতিনিধি : গাজীপুরে সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়নের বনকর আমুনা গ্রামে অবৈধ একটি কারখানায় ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরি করা হচ্ছে। কতিপয় স্বার্থান্বেষী একটি চক্র ওই কারখনায় সিসা সংগ্রহের লক্ষ্যে পুরাতন ব্যাটারি পুড়িয় পরিবেশ দূষণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসে জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পায়নি বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।

ওই কারখানার কারণে ব্যাটারির অ্যাসিডের প্রকট গন্ধে স্থানীয় লোকজন অতিষ্ঠ। কারখানা থেকে নির্গত ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ কারীদের একজন স্থানীয় মো. কামরুজ্জামান বলেন, আমুনা গ্রামের গজারীতলা এলাকায় স্থানীয় মোহাম্মদ আলীর জমি ভাড়া নিয়ে কতিপয় স্বার্থান্বেষী মানুষ গাড়ির পুরাতন ব্যাটারি উন্মুক্ত চুলার আগুনে পুড়ে সিসা গলে বিষাক্ত ধোঁয়ার সৃষ্টি করছে। এতে প্রতিদিন পুরো এলাকায় অ্যাসিডের প্রকট গন্ধ ও সিসার বিষাক্ত ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে মানুষ গবাদিপশু,পাখি ও ফসল নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কারখানা থেকে নির্গত ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থে এলাকায় পাখি, ফল ও ফলজ গাছ এবং কৃষকের ক্ষেতের ফসল মরে যেতে দেখা গেছে। এ ব্যাপারে পাঁচ মাস আগে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার মিলেনি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও এইচএসসি’র পরীক্ষার্থী মো. মাহবুব আলম বলেন, কয়েকমাসে ওই এলাকায় ঘাস খেয়ে ৪/৫টি গবাদিপশু মারা গেছে। স্থানীয় মসজিদ, ও স্কুলসহ এলাকাবাসী প্রতিনিয়ত শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এনিয়ে প্রতিবাদ করলে ওই ব্যবসা পরিচালনাকারী মো. মোশারফ হোসেন আমাকে প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে নানা হুমকি দিয়েছেন। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই তিনি ওই কর্ম করছেন বলেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানার এক শ্রমিক বলেন, দিনে বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগৃহীত ব্যাটারি থেকে প্লেট খোলা ও অ্যাসিড সংরক্ষণের কাজ করা হয়। আর রাত ১০টার পর প্লেটসহ আনুষঙ্গিক জিনিস পুড়িয়ে সিসা তৈরি করা হয়। কারখানায় এক রাতে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ কেজি সিসা হয়। এ জন্য প্রায় দেড় টন ব্যাটারির প্লেট লাগে। ব্যাটারির ওপরের অংশ প্লাস্টিক দ্রব্য তৈরিতে কাজে লাগে, যা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করেন তাঁরা। উৎপাদিত সিসা তাঁরা বাংলাদেশের বিভিন্ন চায়না ফ্যাক্টরিতে বিক্রি করেন।

ব্যবসা পরিচালনাকারী মো. মোশারফ হোসেন জানান, গরু আমারও একটা মারা গেছে তবে তা এ দূষণের কারণে মারা গেছে তা নিশ্চিত নয়। তবে ধুয়া যাতে এলাকায় না ছড়া পড়ে তারজন্য বিকল্প ব্যবস্থা করার জন্য মালিকের সঙ্গে কথা বলব।

ওই ব্যবসার মালিক আবুল কালাম আজাদ লিটন বলেন, আমাদের পেছনে লোক লেগেছে। তারা বিভিন্ন সময় টাকা-পয়সা দাবি করে। টাকা না দেয়ায় তারা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছে। আমরা এ ব্যবসা অনত্র সরিয়ে নেব চিন্তা করছি।

এ ব্যাপারে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার মনিষা রাণী কর্মকার বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নিতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, গাজীপুর সদর উপজেলা কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং গাজীপুর জেলায় কর্মরত পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বরাবর গত ৩ মার্চ চিঠি পাঠানো হয়।

গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুস সালাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথাও হয়েছে। শীঘ্রই মোবাইল কোর্ট করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।