চীনা ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বাংলাদেশে কেন?

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : বাংলাদেশে চীনের একটি প্রতিষ্ঠানের করোনা ভ্যাকসিনের তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল শুরু হতে পারে তিন সপ্তাহের মধ্যেই। সাতটি হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর এই পরীক্ষা চালানো হবে। ট্রায়াল শেষ হতে লাগবে ১৮ মাস।

চীনের সিনোভেক বায়োটেক কোম্পানির করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিনের (করোনাভেক) দুইটি ধাপের ট্রায়াল এরইমধ্যে সেখানে সফল হয়েছে। এবার বাজারজাত করার আগের ধাপে মানবদেহে পরীক্ষার পালা। বাংলাদেশে এই ভ্যাকসিনের মানবদেহে কার্যকারিতা পরীক্ষা করবে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)। এজন্য নৈতিক (এথিক্যাল) অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি)।

এনিয়ে আইসিডিডিআর,বি এখন পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমে কথা বলেনি। জানা গেছে, চুক্তির শর্তের কারণে ট্রায়াল শুরুর আগে তারা কথা বলতে পারবে না। ট্রায়াল শুরু হলে তারা সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টা জানাবে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, যে হাসপাতালগুলোর স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর এই ভ্যাকসিন পরীক্ষা করা হবে তাদের সাথে চুক্তি হচ্ছে৷ আরো কিছু কাজ এখন বাকি আছে। তিনি জানান, ‘‘দুই পক্ষের আগ্রহেই ট্রায়ালের এই চুক্তি হয়েছে। আইসিডিডিআর,বি এর আগেও ওই চীনা প্রতিষ্ঠানের সাথে বিভিন্ন যৌথ গবেষণার কাজ করেছে।’’

বিএমআরসির পরিচালক মাহমুদ উজ জাহান জানান, ‘‘তৃতীয় ধাপের এই পরীক্ষা সর্বশেষ ধাপ। এটা সম্পন্ন হলে জানা যাবে যে করোনা প্রতিরোধে এই ভ্যাকসিন মানবদেহে কার্যকর হবে কিনা। আমাদের কাছে আইসিডিডিআর,বি প্রটোকল জমা দিয়েছিল। ন্যাশনাল এথিকস কমিটি এথিক্যালি অনুমোদন দিয়েছে।’’

কিন্তু এখনো আরো কিছু অনুমোদন লাগবে। তার মধ্যে রয়েছে ওষুধ প্রশাসন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, আর যে হাসপাতালগুলোতে কাজ হবে তাদের অনুমোদন। এছাড়া কিছু রিএজেন্ট আনারও অনুমোদন দরকার হবে।

ট্রায়াল কীভাবে হবে?
যেসব হাসাপতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর ট্রায়াল হবে সেগুলো হলো: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ইউনিট-২, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বার্ন ইউনিট-১, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুয়েত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল এবং ঢাকা মহানগর হাসপাতাল। হাসপাতালগুলোর চার হাজার ২০০ কর্মী এই পরীক্ষার আওতায় থাকবেন৷ সবার শরীরেরই ভ্যাকসিন প্রয়োগ হবে। তবে করোনার ভ্যাকসিন ‘করোনাভেক’ প্রয়োগ হবে তাদের অর্ধেক দুই হাজার ১০০ জনের ওপর। বাকি দুই হাজার ১০০ কর্মীকে নিরপেক্ষ কোনো ভ্যাকসিন দেয়া হবে। কিন্তু তাদের কেউই জানবেন না কার শরীরে করোনা ভ্যাকসিন আর কার শরীরে অন্য ভ্যাকসিন। নির্দিষ্ট সময় পরে এর কার্যকারিতা বোঝা যাবে। করোনা ভ্যাকসিনের প্রভাব এবং যাদের দেয়া হয়নি তাদের অবস্থা তুলনা করা হবে।

এই ট্রায়ালে মোট ১৮ মাস সময় লাগবে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে তিন সপ্তাহের মধ্যে ট্রায়ালের কাজ শুরু হতে পারে বলে জানান মাহমুদ উজ জাহান। তবে সেটা নির্ভর করছে আইসিডিডিআর,বি-এর ওপর। ট্রায়ালের সময় চীনা বিশেষজ্ঞরাও বাংলাদেশে থাকবেন। যাদের ওপর ভ্যাকসিন প্রয়োগ হবে তাদের সেফটি নিশ্চিত করা হবে, তাদের ফলোআপে রাখা হবে।  তাদের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া হলে কি করা হবে তাও আগে থেকেই ঠিক করা আছে।

বাংলাদেশে ট্রায়াল কেন?
আইসিডিডিআর,বি-এর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তৃতীয় পর্যায়ের এই ট্রায়ালে অনেক লোকের প্রয়োজন হয়। তাই তারা জনবহুল দেশকে বেছে নেয়। এখন ব্রাজিলে এরইমধ্যে থার্ড স্টেজ ট্রায়াল চলছে ছয় হাজার ৭০০ জনের ওপর। মাহমুদ উজ জাহান বলেন, ‘‘এটা হলো বাজারজাত করার আগের ধাপ। এটা সফল হলেই তারা এই ভ্যাকসিন বাজারজাত শুরু করবে। আর বাংলাদেশে এই ট্রায়ালের সুযোগ দেয়ায় তারা বাংলাদেশকে কিছু ভ্যাকসিন বিনামূল্যে দেবে। কিছু দেবে লো কস্টে। আর এখানে ভ্যাকসিন উৎপাদনের প্ল্যান্টও স্থাপন করবে তারা। ফলে বাংলাদেশে ভ্যাকসিনটি কম দামে ও দ্রুত পাওয়া যাবে।’’

আইসিডিডিআর,বি-এর ওই কর্মকর্তা জানান, সিনোভেক বায়োটেক একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। অতীতে তাদের সাথে কাজের অভিজ্ঞতায় তাই প্রতীয়মান হয়েছে। আইসিডিডিআর,বি-এর মিডিয়া ম্যানেজার তারিফ হাসান বলেন, ‘‘সংবাদমাধ্যমকে এখনো জানানোর সময় আসেনি। আমরা সময়মতো বিস্তারিত জানাব।’’

 

সূত্র: ডয়চে ভেলে