গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : বাংলাদেশ এখন করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করছে। করোনা সঙ্কটের কারণে বিপর্যস্ত হয়েছে জনজীবন এবং জনস্বাস্থ্য। সরকার তাঁর সাধ্যমতো চেষ্টা করছে করোনা পরিস্থিতি থেকে মানুষের জীবন এবং জীবিকাকে রক্ষা করার জন্যে। কিন্তু এই সঙ্কটকালীন সময়ে ‘ঘোলা পানিতে’ মাছ শিকারের চেষ্টা করছে কোন কোন মহল। বিশেষ করে ওয়ান ইলেভেনের সময় যারা বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়াকে উসকে দিয়েছিল এবং যারা সেই সময় একটি সুশীল সরকার গঠনে তৎপর হয়েছিল তাঁরা এখন আবার নতুন করে সক্রিয় হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। তাঁরা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যে এবং সরকার ব্যর্থ হচ্ছে এমন একটি ধারণা জনগণের মাঝে পতিত করার জন্যে সক্রিয় চেষ্টা করছে। এই গোষ্ঠী এখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের দুর্নীতি ফলাও করে প্রচার করা এবং সেগুলোকে গণমাধ্যমে নিয়ে আসার মাধ্যমে আওয়ামী বিরোধী একটি সেন্টিমেন্ট তৈরির চেষ্টা করছে।
যদি ওয়ান ইলেভেন সময়ের আগেরকার অবস্থা বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখা যাবে যে, সেই সময়ে সারাবিশ্বের পরিস্থিতিকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখানো হয়েছিল এবং এমন একটি পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল যাতে প্রমাণিত হয় যে, রাজনীতিবিদরা ব্যর্থ। রাজনীতিবিদরা দুর্নীতিগ্রস্ত এবং রাজনীতিবিদরা কোন সঙ্কটের সমাধান করতে পারেনা। ঠিক একইরকম প্রক্রিয়া এখন চলছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত দুইটি দৈনিক পত্রিকা কিছুদিন ধরেই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানারকম প্রতিবেদন প্রকাশ করছে এবং সেই সমস্ত প্রতিবেদন দিয়ে একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করছে যে, আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ দুর্নীতিগ্রস্ত। পাশাপাশি ওয়ান ইলেভেনের কুশীলব সুশীলরা জাতীয়-আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সরকারের নানা ব্যর্থতার কথা বলছেন এবং নানারকম অবাস্তব নছিয়তও দিচ্ছে। এই ব্যাপারে অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবরা আবারও সক্রিয় হয়েছে। বিশেষত তাঁরা করোনা মোকাবেলায় সরকার ব্যর্থ এটা প্রমাণের মরিয়া চেষ্টায় নেমেছে। এরকম বেশকিছু তথ্য পাওয়া গেছে যে, ওয়ান ইলেভেনের অন্যতম কুশীলব এবং শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনুস করোনা সঙ্কটে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করছেন। সরকার করোনা মোকাবেলা করতে পারছে না এবং এই সরকারের কারণেই দুর্নীতি আশ্রয়প্রশ্রয় পাচ্ছে এমন একটি ধারণা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এর ফলে সরকারের ভাবমূর্তি যেন নষ্ট হয় সেজন্যে পরিকল্পিত প্রচারণা চালাচ্ছেন ড. ইউনুস এবং তাঁর শিষ্যরা।
একইভাবে ওয়ান ইলেভেনের অন্যতম কুশীলব ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য একইভাবে সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে তাঁর নিয়ন্ত্রিত একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিরামহীন প্রচারণা করছে। ওয়ান ইলেভেনের সময় অন্যতম সক্রিয় প্রতিষ্ঠানও টিআইবিও আগের থেকে অনেক বেশি সক্রিয়। টিআইবিও একের পর এক সরকারের নানা দুর্নীতির বিষয়ে কথা বলছে। তবে সরকার যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং যেই দুর্নীতি করছে তাকেই যে আইনের আওতায় আনছে তা নিয়ে কোন কথা বলছে না। ওয়ান ইলেভেনের সময়ে সক্রিয় থাকা গণমাধ্যমগুলোও এখন একই প্রক্তিয়া শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, এই সঙ্কটকে রাজনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে ফুটিয়ে তুলতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবরা এবং শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরে থেকেও এই ষড়যন্ত্র চলছে এবং কিছু কিছু ব্যক্তিকে উসকে দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে সরকারবিরোধী এবং রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে এবং জাতীয়-আন্তর্জাতিকভাবে এক ধরণের ধুম্রজাল তৈরি করার প্রক্রিয়া চলছে। বিশেষ করে গণমাধ্যমে এমনভাবে প্রচার চালানো হচ্ছে যাতে মনে হচ্ছে সরকার আসলে ব্যর্থ হচ্ছে। আর এইসমস্ত বাস্তবতার কারণে ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সরকারকে আরো তৎপর হওয়া উচিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: বাংলা ইনসাইডার