গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : চালের দাম তো বাড়ছেই। সেই সঙ্গে দর বেড়েছে প্রায় সব নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যেরও। এজন্য দায়ী করা হচেছ বন্যা আর সিন্ডিকেটকে। চালের বাজার বাড়ার পিছনে দায়ী করা হচ্ছে ধানের বাড়তি দামকেও।
করোনায় সাধারণ মানুষের জন্য আরেক দফা আপদ হয়ে এসেছে বাজারের বাড়তি দাম। কলাবাগানের বেসরকারি চাকরিজীবী শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‘করোনার কারণে বেতনের ঠিক নাই। তার ওপর নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় এখন দিশেহারা অবস্থা৷ কিভাবে চলব বুঝতে পারছি না।’’
বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় খাবারের জন্য জরুরি যা যা দরকার তার প্রায় প্রত্যেকটিরই দাম বেড়েছে এক-দুই সপ্তাহের ভিতরে। বশির উদ্দিন রোডের মুদি দোকানদার মিন্টু মিয়া জানান, ‘‘সব ধরনের চালের দামই কেজিতে তিন থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছে। ডিমের দাম হালিতে বেড়েছে চার টাকা। পেঁয়াজ, আলু, চিনি সব কিছুরই দাম বাড়তির দিক। এর বাইরে তেল, দুধসহ আরো অনেক পণ্যের দাম ধীরে ধীরে বাড়ছে।’’
উর্দ্ধমুখী মাছ, মাংসের দামও৷ এজন্য বিক্রেতারা দায়ী করছেন বন্যা আর বৃষ্টিকে। সবজিসহ কাঁচাবাজারেও এমন কোনো পণ্য নাই যার দাম বাড়েনি। বেগুন ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, ঢেঁড়শ ৫০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এই দর সাধারণ সময়ের চেয়ে গড়ে ১০-১২ টাকা বেশি বলে জানান বিক্রেতারা।
টিসিবি’র তথ্য মতে নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫৫ টাকা থেকে ৬৪ টাকায়, যেখানে এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা থেকে ৬২ টাকায়। আর গতবছর একই সময়ে প্রতি কেজির দাম ছিল ৪৭-৫৬ টাকা। একইভাবে মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা চাল কেজিতে তিন থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছে।
আর মোটা চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৪-৪৮ টাকায়৷যা এক সপ্তাহ আগে ছিলো ৪০-৪৫ টাকা। কিন্তু টিসিবি’র এই হিসাবের সঙ্গে বাজারের দরের তফাৎ রয়েছে৷ মিন্টু মিয়া জানান, ‘‘এখন মিনিকেট চাল ৬৮ টাকা কেজি বিক্রি হয়৷ আর মাঝারি মানে বিরি ২৮ চাল বিক্রি হয় ৫১ টাকা কেজি।”
আড়ৎদাররা অবশ্য দাবি করছেন তারা চালের দাম বাড়াচ্ছেন না, মিল মালিকরা বাড়াচ্ছেন। তাদের আগের মজুত থাকায় এবং প্রতিযোগিতার কারণে তাদের পক্ষে দাম তেমন বাড়ানো সম্ভব হয় না। বাবুবাজার-বাদামতলী আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘‘এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খুচরা ব্যবসায়ীরা৷ তারা বন্যা এবং বৃষ্টির অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।’’
কিন্তু মিল মালিকরা দাবি করেছেন, ধানের দাম বেশি হওয়ায় চালের দাম বাড়াতে তারা বাধ্য হয়েছেন।
বাংলাদেশ অটো রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবিএম খোরশেদ আলম বলেন, ‘‘মোটা ধানের মন আগে এই সময়ে ছিলো ৭০০ টাকা। আর এই বছর এক হাজার টাকার উপরে৷ মিনিকেট ও নাজিরশাইল ধান গত বছর এই সময়ে ছিলো ৯০০ টাকা। আর এ বছর এক হাজার ২০০ টাকা৷” তিনি দাবি করেন, ‘‘এবার ধানের দাম বেশির পিছনে সিন্ডিকেট আছে৷ আর সরকার ধান উৎপাদনের যে হিসাব দিচ্ছে আমার মনে হয় তা ঠিক নয়৷ তাই সরবরাহ সংকট আছে।’’
চালের বাজার নির্ভর করে সরকারের মজুত এবং আগামি দিনের সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর। সরকারি হিসাবে ১০ লাখ টন চাল মজুত থাকার কথা বলা হলেও গত বছরের তুলনায় তা চার লাখ টন কম। আর সরকার যে দাম নির্ধারণ করছে তাতে ধান-চাল সংগ্রহ সফল হয়নি। সিপিডির অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘‘দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কারণে আগামী আমন ধানে একটা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পড়বে। ফলে সব মিলিয়ে চালের সরবরাহে এবার চ্যালেঞ্জ আছে। তাই যথা সময়ে চাল আমদানি না করলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।’’
বাংলাদেশে এই সময়টাতে ভোগ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি নির্ভর অনেকটাই। আর বন্যার কারণে শাক সবজিসহ আরো অনেক নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন ব্যাহত করেছে। করোনায় সরকারকে ত্রাণ ও অন্যান্য খাতে অনেক টাকা খরচ করতে হয়েছে। তাই এই অর্থনীতিবিদ মনে করেন, ‘‘বাজার মনিটরিং-এর সাথে বেসরকারি পর্যায়ে ভোগ্যপণ্য আমদানিতে উৎসাহ দেয়া প্রয়োজন।’’
সূত্র: ডয়চে ভেলে