মালয়েশিয়ায় প্রবেশে বাংলাদেশীদের জন্য বিধিনিষেধ শিথিল

গাজীপুর কণ্ঠ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তিনদিনের ব্যবধানে বাংলাদেশসহ ২৩টি দেশের নাগরিকদের ওপর আরোপিত ‘প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা’ শিথিল করল মালয়েশিয়া। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রবাসী ও পেশাদার পাসকার্ডধারী বাংলাদেশীরা মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারবেন। তবে এজন্য দেশটির অভিবাসন বিভাগ থেকে পূর্বানুমতি নিতে হবে।

মালয়েশিয়ার সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসমাইল সাবরি ইয়াকব গণমাধ্যমে জানান, মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রবাসী এবং পেশাদারদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশের আগে ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্ট থেকে অনুমোদন নিতে হবে। তাদের আবেদনের সঙ্গে মালয়েশিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটিস অথবা সম্পর্কিত সংস্থা থেকে একটি সাপোর্ট লেটার থাকতে হবে।’

নতুন সিদ্ধান্ত অনুসারে মালয়েশিয়ায় স্থায়ী আবাসিকতার অনুমতিপ্রাপ্ত এবং দেশটির নাগরিকদের স্বামী বা স্ত্রীদেরও প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে তারা দেশটিতে প্রবেশ করতে পারলেও এখনই সেখান থেকে বের হতে পারবেন না। এছাড়া বিভিন্ন দেশের যেসব শিক্ষার্থী পাসধারী আক্রান্ত হয়েছেন, তারাও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মালয়েশিয়ায় প্রবেশের অনুমতি পাবেন।

মালয়েশিয়ার সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসমাইল সাবরি ইয়াকব বলেন, ‘উল্লিখিত সব ধরনের ক্যাটাগরির মানুষের প্রবেশের আগে অবশ্যই অভিবাসন বিভাগের অনুমতি নিতে হবে।’ তবে অভিবাসন বিভাগ নতুন শিক্ষার্থীদের পাস অনুমোদন করবে না বলে জানান তিনি।

গত ৪ আগস্ট এক নোটিসে ঢাকার মালয়েশিয়ার হাইকমিশন জানায়, নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বাংলাদেশসহ ২৩টি দেশের নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মালয়েশিয়া। এ নিষেধাজ্ঞা ৭ আগস্ট থেকে প্রযোজ্য হয়। তালিকায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়া অন্য দেশগুলো হলো ভারত, পেরু, কলম্বিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, চিলি, ইরান, পাকিস্তান, তুরস্ক, জার্মানি, ইরাক, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ব্রাজিল, স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, সৌদি আরব ও রাশিয়া। এছাড়া এসব দেশ থেকে কোনো মালয়েশিয়ান নাগরিক নিজ দেশে ফেরার পর ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে বলেও ওই নোটিসে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ হয় মার্চে। পরবর্তী সময়ে জুলাইয়ে শর্তসাপেক্ষে ট্রানজিট যাত্রী ও মালয়েশিয়ার রেসিডেন্স পারমিটধারী, পেশাজীবী, শিক্ষার্থীদের প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জুলাই থেকে ঢাকা-কুয়ালালামপুর ও কুয়ালালামপুর হয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে কমার্শিয়াল ফ্লাইট চালু করে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস। পরে বিভিন্ন সময়ে এয়ার এশিয়া, মালিন্দ এয়ার, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা-মালয়েশিয়া রুটে ফ্লাইট চালু করে।