৩০-৪০% সৌদিপ্রবাসীর কর্মস্থলে যোগ দেয়া প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছে বায়রা

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক : সৌদি সরকারের নির্দেশনা মানতে হলে সৌদিফেরত ৩০ থেকে ৪০ ভাগ কর্মীর কর্মস্থলে যোগদান করা প্রায় অসম্ভব হবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা)।

ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসের এক সার্কুলার অনুযায়ী একজন কর্মীকে সব কার্যক্রম নতুন করে সম্পন্ন করে পাঠানো ব্যয় বহুল ও সময়সাপেক্ষ বলে উল্লেখ করছে বায়রা। এ প্রক্রিয়াকে সহজ করার জন্য জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রয়োজন বলে মনে করছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বায়রার সভাপতি বেনজির আহমেদ এবং মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলা হয়।

বায়রার পক্ষ থেকে ২০১২ সালে প্রণীত মানবপাচার প্রতিরোধ আইন বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিদের জন্য হয়রানিমূলক উল্লেখ করে তাদের ক্ষেত্রে ২০১৩ সালে প্রণয়ন করা অভিবাসন আইন প্রযোজ্য করার দাবি করা হয়।

বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সেল গঠনের প্রস্তাব করে বায়রার পক্ষ থেকে বৈঠকে বলা হয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বায়রার প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করে এ সেল গঠন করা যেতে পারে। এই সেলে পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অথবা সৌদি সরকারের উচ্চপর্যায়ে ব্যক্তিগত যোগাযোগ আছে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে তা পরিচালনার জন্য একজন প্রধান সমন্বয়কারী নিয়োগ করা যেতে পারে।

কোভিড পরিস্থিতি মোকাবেলায় বায়রার সুপারিশে আরো বলা হয়, যেসব কর্মী ছুটিসহ বিভিন্ন কারণে দেশে আসার পর আর কর্মস্থলে ফিরে যেতে পারেননি বা বর্তমানে যাদের ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়নি, যারা যাওয়ার চেষ্টা করছেন জরুরি ভিত্তিতে তাদের একটি ডাটাবেজ প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

প্রতারণা বা চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তদন্তের আগে রিক্রুটিং এজেন্সির কার্যক্রম বন্ধ না করার দাবি জানিয়ে বায়রার পক্ষ থেকে বলা হয়, সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পুরুষ ও নারী কর্মী পাঠানোর পরেও কখনো কখনো কর্মীর নিয়োগকর্তা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে থাকেন। আবার অনেক কর্মী বিদেশে গিয়ে হোমসিকসহ নানা কারণে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে আসা এসব কর্মীর অভিযোগ পেয়েই মন্ত্রণালয় কিংবা বিএমইটি সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত রিক্রুটিং এজেন্সির স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন বায়রার নেতারা।

কমিটির সভাপতি আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ, আলী আশরাফ ও সাদেক খান এ বৈঠকে অংশ নেন।