চট্টগ্রাম পুলিশে ‘শুদ্ধি অভিযান’: কী ঘটছে, কেন ঘটছে?

কর্ণফুলী ও খুলশী থানার দুই ওসিকে মাত্র দুই দিনে দুইবার করে বদলি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম পুলিশে ‘শুদ্ধি অভিযান’: কী ঘটছে, কেন ঘটছে?

গাজীপুর কণ্ঠ ডেস্ক

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে আট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), আট পরিদর্শক এবং ঊর্ধ্বতন পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। দৈনিক সমকাল এই খবর জানিয়েছে।

কী হয়েছে?

গত ১৫ জুন রাতে একযোগে পাঁচ থানার ওসি ও তিনজন পরিদর্শককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। দুই দিনের মাথায় ১৭ জুন রাতে আরও তিন থানার ওসি ও পাঁচজন পরিদর্শককে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ১৮ জুন পৃথক দুটি আদেশে দুই অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও তিন উপপুলিশ কমিশনারের দায়িত্বেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়।

এই রদবদলে সবচেয়ে নজরকাড়া ঘটনা হলো — কর্ণফুলী ও খুলশী থানার দুই ওসিকে মাত্র দুই দিনে দুইবার করে বদলি করা হয়েছে।

কেন এই পরিবর্তন?

সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলছেন, এটি কোনো শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নয়, বরং জনস্বার্থেই এই আদেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে পুলিশ প্রশাসনের ভেতর থেকে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে ভিন্ন কথা। তাদের মতে, জাতীয় ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে খুলশী থানায় মারধর ও হেনস্তার ঘটনার পর পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার, থানায় সেবার মান উন্নয়ন এবং অভিযুক্তদের বার্তা দেওয়াই এই গণবদলির মূল উদ্দেশ্য।

কারা সরলেন?

সমকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।

উত্তর জোনের ডিসি আমিরুল ইসলামকে ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স শাখায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নাঈম হাসানের ঘটনা সামলাতে ব্যর্থতা এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে।

নাঈম হাসানকে হেনস্তার সরাসরি অভিযোগে অভিযুক্ত খুলশী থানার তৎকালীন ওসি আরিফুর রহমানকে ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

কোতোয়ালি থানার ওসি আফতাব উদ্দিনকে লাইনওয়ারে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে এক লাখ ইয়াবা গায়েব করার অভিযোগ রয়েছে বলে সমকাল জানিয়েছে।

পরিস্থিতি এখন কোথায়?

ওসি পর্যায় থেকে শুরু হয়ে বদলির তরঙ্গ এখন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্তরে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধারাবাহিক রদবদল কেবল প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস নয় — এটি একটি স্পষ্ট বার্তা যে বিতর্কিত কর্মকর্তারা আর নিরাপদ নন।

তবে প্রশ্ন থাকছে — বদলিই কি যথেষ্ট, নাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে?